ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতি মাসে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী

প্রতি মাসে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী
×

শয্যা না পেয়ে বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিরা। গতকাল বুধবার যশোরের অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে -সমকাল

মো. ফারুক হোসেন, নওয়াপাড়া (যশোর)

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

শুকরন নেছার (৪৫) জ্বর আসে বেশ কয়েক দিন আগে। দুয়েক দিন ভোগার পর স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করে জানতে পারেন, ডেঙ্গু হয়েছে তাঁর। এর পর থেকে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গত মঙ্গলবার জ্বর বাড়তে থাকায় বাধ্য হয়ে যশোরের অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। তাঁর বাড়ি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গুয়াখোলা গ্রামে। গতকাল বুধবার শুকরন নেছাকে পাওয়া যায় হাসপাতালের বারান্দায়। শয্যা সংকটের কারণে এখানেই চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। 

অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার হলেও গতকাল এখানে চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন ৯৪ জন। তাদের মধ্যে নারী ৪৩ জন, পুরুষ ৫১ জন। এই রোগীদের ৩০ জনই শুকরন নেছার মতো ডেঙ্গু আক্রান্ত। চলতি বছরে তাদের নিয়ে মোট ৫২৫ ডেঙ্গু রোগী এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন তিনজন। 
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এখানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন আটজন। ফেব্রুয়ারিতে ভর্তি হন দুজন। এ ছাড়া মার্চে ৭, এপ্রিলে ১৮, মে মাসে ৩১, জুন মাসে ৫৫, জুলাইয়ে ১২৫ ও আগস্টে ১৬১ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এখানে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৬ দিনে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১১৮।
এর বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক বা বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের সংখ্যা এই পরিসংখ্যানে নেই। ফলে উপজেলায় ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মশার উপদ্রব বেড়েছে। কিন্তু ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধনের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। 

উন্নত চিকিৎসার জন্য এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে গত ৭ আগস্ট খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল তৃতীয় লিঙ্গের আনোয়ারা বেগমকে (৭০)। নওয়াপাড়ার বুইকরা এলাকার এই বাসিন্দা সেদিনই আইসিইউতে মারা যান। এর আগে ৩ জুলাই নওয়াপাড়া মডেল কলেজ এলাকার সোহেল (২৯) নামে এক যুবককে খুলনায় রেফার করেন চিকিৎসকরা। পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। গত ১৬ জুন ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামরুল ইসলাম মোড়লের স্ত্রী জোসনা বেগমের (৪৫)।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজিবের ভাষ্য, যশোর জেলার মধ্যে অভয়নগরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি। এর মধ্যে বেশি নাজুক পরিস্থিতি পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এডিস মশার বিস্তার বাড়ছে বলেও মনে করেন তিনি। বিশেষ করে গত জুন থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা অভয়নগরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫২৫ রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর বাইরেও ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অনেকে। কেউ কেউ বাড়িতেও চিকিৎসা নিচ্ছেন। 
নওয়াপাড়া পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অভয়নগরের ইউএনও শেখ সালাউদ্দিন দিপুর ভাষ্য, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভার প্রতিটি এলাকায় এডিস মশা মারার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে সতর্কতামূলক প্রচার করা হচ্ছে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখছেন তারা। 
নওয়াপাড়া মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. মহিদুল ইসলাম খানের অভিযোগ, নওয়াপাড়া পৌরসভায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা অপরিকল্পিত। মশক নিধনে পৌর কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও দৃশ্যমান নয়। এ কারণেই পৌর এলাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি। মানুষকে সচেতন করতে পৌর কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন

×