ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্যাসের লাইন মেরামতে ১৪ ঘণ্টার জায়গায় লাগল ২৬ ঘণ্টা

গ্যাসের লাইন মেরামতে ১৪ ঘণ্টার জায়গায় লাগল ২৬ ঘণ্টা
×

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

গ্যাসের পাইপলাইন মেরামতে ১৪ ঘণ্টা লাগবে বলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রাহকদের আগাম জানিয়েছিল বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)। তবে সেই কাজ শেষ হতে তাদের লেগেছে ২৬ ঘণ্টা। এতে জেলার প্রায় ২২ হাজার গ্রাহককে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিজিডিসিএলের ব্রাহ্মণবাড়িয়া উপমহাব্যবস্থাপকের কার্যালয় থেকে গত সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, গ্যাসের পাইপলাইনে জরুরি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকা, সদর ও সরাইল উপজেলায় মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে টানা ১৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না। সে হিসাবে রাত ১০টার পর গ্যাস সরবরাহ চালু করার কথা ছিল। গ্রাহকরাও এই সময়ের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন। তবে নির্ধারিত সময়ের আধাঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও গ্যাস না আসায় তিন এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। শত শত গ্রাহক রাতের খাবারের জন্য আশপাশের রেস্তোরাঁয় ভিড় করেন। 

গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের কালীবাড়ি মোড়ের বিসমিল্লাহ রেস্তোরাঁর সামনে পাওয়া যায় বণিকপাড়ার বাসিন্দা ইকবাল আহমেদকে। তিনি ক্ষুব্ধকণ্ঠে বলেন, ‘বাখরাবাদের ঘোষণার নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও গ্যাস না আসায় হোটেল থেকে পরোটা নিতে এসেছি।’
এই রেস্তোরাঁর সামনে প্রায় ১৫-২০ জন ক্রেতাকে খাবারের অপেক্ষায় লাইন ধরতে দেখা যায়। বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিলাল বণিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা এ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ 
করতে পারবে না জানালে হয়তো তারা বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারতেন। 

শহরের পাইকপাড়ার বাসিন্দা অসীম কুমার বর্ধন পেশায় আইনজীবী। মঙ্গলবার সকালে গ্যাসের অভাবে বাসা থেকে নাশতা না খেয়েই আদালতে যেতে হয় তাঁকে। সেখানে নাশতা করতে হয় তাঁকে। শহরের কালাইশ্রী পাড়ার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মো. নাসির তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির জেলা শাখার সদস্য সচিব। তিনিও অসীম কুমারের মতো একই দুর্ভোগে পড়েন। 
গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে কথা হয় শহরের বণিকপাড়ার বাসিন্দা লুবনা আহমেদের সঙ্গে। তখনও পর্যন্ত তাঁর বাসায় গ্যাস আসেনি। লুবনা বলেন, লাইনের মেরামত কাজের জন্য গ্যাস বন্ধ থাকায় মঙ্গলবার দুপুরে পাশের বাসার সিলিন্ডারের গ্যাস দিয়ে রান্না করেন। ভেবেছিলেন রাতে গ্যাস আসবে। কিন্তু না আসায় পরে রেস্তোরাঁ থেকে খাবার আনতে হয়েছে। বিষয়টি তাঁর মতো নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে এদিন দুপুরে তিনি জানান, সকাল ১০টার পর তাঁর বাসার চুলায় গ্যাস এসেছে। 
বিজিডিসিএল ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুল হকের ভাষ্য, লাইনে কাজ করতে গিয়ে নতুন ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। ঘাটুরা এলাকায় যেখানে লাইন মেরামত করা হচ্ছিল, সেখানকান বোরোপিটে পানি উঠে যায়। বিষয়টি আগে থেকে অনুমান করার সুযোগ ছিল না। তাই গ্রাহকদের জানানো যায়নি। 

আরও পড়ুন

×