ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মসজিদে বিস্ফোরণ: তিতাসের তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান

মসজিদে বিস্ফোরণ: তিতাসের তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান
×

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০:৫৭ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ২৩:১৫

নারায়ণগঞ্জে বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় তিতাসের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে নিহতদের পরিবার, মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসী। তাদের দাবি, নিজেদের দোষ ঢাকতেই তিতাস কর্তৃপক্ষ মসজিদ কমিটির ওপর দায় চাপাতে চাইছে। তারা নিরপেক্ষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।

গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জ্বালানি সচিবের কাছে ১৬ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়। এতে মসজিদ কমিটির অবহেলাকে দায়ী করা হয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুল গফুর তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তিতাসের প্রতিবেদনে আমরা হতাশ।

আবদুল গফুর বলেন, তিতাস কর্তৃপক্ষ নিজেদের বাঁচাতে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। তারা কতটা দুর্নীতিবাজ তা সারাদেশের মানুষ জানে। তিতাস কখনও বলছে, মসজিদের ভবন নির্মাণের সময় তাদের গ্যাসলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার বলছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ যারা নিয়েছে, তারা এ ঘটনার জন্য দায়ী। অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়ার সময় যদি লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে মসজিদ কমিটি দায়ী হয় কীভাবে?

তিনি বলেন, তিতাসের ভাষ্যমতে, মসজিদ নির্মাণ হয়েছে ২০০০ সালে। তাহলে মসজিদ নির্মাণের ২০ বছর পর এ দুর্ঘটনা ঘটল। এ ২০ বছর তিতাস কর্তৃপক্ষ কী করেছে? তিতাসের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে কী হয় তা পুরো জেলাবাসীর জানা। তাদের মনগড়া এ প্রতিবেদন কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। তা ছাড়া এলাকাবাসী বলছে, তারা আগে থেকেই গ্যাসের গন্ধ পেত সেখানে আমাদের দায় কতটুকু। আমরা বলেছি, মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হান্নান সাউদ তিতাসের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে তিনি ওই ঘটনায় মারা যাওয়ায় তিতাস এখন সেই সুযোগটি নিচ্ছে।

বিস্ফোরণে নিহত মসজিদের ইমাম আবদুল মালেক নেসারীর ছেলে নাইমুল ইসলাম জানান, ক্ষতিপূরণ যাতে দিতে না হয়, সে জন্য পাঁয়তারা করছে তিতাস। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে তিতাস দায় এড়ানোর জন্য মসজিদ কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছে। এ তদন্ত প্রতিবেদন ফের পর্যবেক্ষণ করে আবার দিতে হবে। তিতাস তার দায় এড়ানোর চেষ্টা করলে নিহতদের পরিবার প্রয়োজনে আন্দোলনে যাবে।

তিনি বলেন, এখানে যারা নিহত হয়েছেন, তারা তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। পরিবারগুলো একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেছে। তাই সরকারের উচিত নিহতদের পরিবারের পাশে আর্থিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়ানো। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান।

স্থানীয় মারুফ বলেন, তিতাসের দাবি কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার দায় তিতাসকেই নিতে হবে। গ্যাস তো আর হঠাৎ করেই বের হয়নি। বেশ কিছুদিন ধরেই বের হচ্ছিল। আরেক বাসিন্দা ফারুক বলেন, গ্যাসের সমস্যার বিষয়টি তিতাসকে জানানো হয়েছে, এটি সত্যি। কিন্তু মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মারা যাওয়ায় এখন সেই বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক বেঁচে থাকলে তিতাস কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারত না। তারা দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারবে না। কারণ তিতাস দেখেছে মসজিদের নিচ দিয়ে কোনো গ্যাসলাইন যায়নি।

এলাকার আরও অনেক বাসিন্দা অবিলম্বে মসজিদ খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে নিহতদের পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

আরও পড়ুন

×