ঢাকা শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লা

এমপির হস্তক্ষেপে নিয়োগপত্র পেলেন ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তাছলিমা

এমপির হস্তক্ষেপে নিয়োগপত্র পেলেন ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী তাছলিমা
×

তাছলিমা আক্তার

কামাল উদ্দিন, কুমিল্লা

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০০:০৫ | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০০:০৬

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্সে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়া তাছলিমা আক্তার সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ প্রাপ্ত হন। দরিদ্র অটোরিকশাচালক বাবার সন্তান তাছলিমার এমন আনন্দের খবরে পরিবারের লোকজনও ছিলেন বেশ উচ্ছ্বসিত। তবে এই আনন্দের মাঝেই আসে দুঃসংবাদ। অজ্ঞাত কারণে তাঁর নিয়োগ আটকে যায়। পরে জানতে পারেন পুলিশ প্রতিবেদনে জমির ‘খতিয়ান’ না দেখানো ও ভূমিহীন উল্লেখ থাকার কারণে তাঁর নিয়োগ আটকে গেছে।

তাছলিমার ভাষ্য, কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরীর হস্তক্ষেপে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁকে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে জেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিস বলছে, সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগ বঞ্ছিত ৭৭ জনের মধ্যে ৭১ জনকে গত ৪ দিনে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র বলছে, গত বছরের ১২ নভেম্বর কুমিল্লায় সহকারী শিক্ষক পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয় চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি। মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয় ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি। জেলায় এ বছর ৫০৮ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করার পর ৪৭৭ জন মেডিকেল সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। তাদের মধ্যে সম্প্রতি চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেওয়া হয় ৪০০ জনকে। পুলিশ রিপোর্টসহ বিভিন্ন কারণে ৭৭ জন নিয়োগপত্র পাননি। এ নিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে দৈনিক সমকালের অনলাইনে বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশিত হয়। নিয়োগ না পাওয়া ৭৭ জনের একজন ছিলেন লালমাই উপজেলার ভুশ্চি ইউনিয়নের পরতী গ্রামের অটোরিকশাচালক অহিদুর রহমানের মেয়ে তাছলিমা আক্তার।

ভূমিহীন তকমায় নিয়োগ আটকে রাখার বিষয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেলে তাছলিমা সমকালকে বলেন, ‘আমার দাদার সম্পত্তিতে আমরা থাকি। জমির খতিয়ান সংগ্রহে ছিল না। পুলিশের ডিএসবির একজন সদস্য রিপোর্ট তৈরির সময় খতিয়ান চায়। তা দিতে না পারায় ভূমিহীন খতিয়ান সংগ্রহ করতে বলায় আমরা তাই করি। তাই নিয়োগপত্র পেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।’ 

তাঁর ভাষ্য, এমপি মনিরুল হক চৌধুরী গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানতে পেরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে কথা বলেন। পরে তাঁর হাতে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। এ জন্য এমপির প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

অহিদুর রহমান বলেন, অটোরিকশা চালিয়েই ৬ মেয়েকে বড় করছেন তিনি। তাঁর মেয়ের স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুলিশকে দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু বাড়ির জমির খতিয়ান না থাকায় এতদিন মেয়ের নিয়োগ আটকে ছিল।

পরতী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুবুল হক মজুমদার রতনের ভাষ্য, তাছলিমা অত্যন্ত মেধাবী। শিক্ষক নিয়োগে লিখিত, মৌখিকসহ সব পর্যায় সফলভাবে পার হওয়ার পরও তাঁর নিয়োগপত্র না আসায় চিন্তিত ছিলেন তারা। সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে দেরিতে হলেও তাঁর নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছে।

সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমি যখন জানতে পেরেছি এই পরিবার এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও ভোটার। অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করা এই মেধাবী চাকরি প্রার্থী নিয়োগেও সুপারিশপ্রাপ্ত হয়। তাই মানবিক কারণে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর প্রধানকে জানাই। পরে নিয়োগপত্র পেয়ে সে (তাছলিমা) গত বৃহস্পতিবার রাতে দেখা করতে এসেছিল। যারা বলেছে জমির জন্য চাকরি হবে না এখন তাদেরই চাকরি থাকা ঠিক না।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরী শুক্রবার সন্ধ্যায় সমকালকে জানান, পুলিশ প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে যে ৭৭ জনের নিয়োগ বিলম্বিত হয়েছিল। তাদের মধ্যে গত ৪ দিনে ৭১ জনকেই নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ নিয়োগ পেয়েছেন তাছলিমা আক্তার। অপর ৬ জনের বিষয়ে অধিদপ্তরে চিঠি লেখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×