ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

চুয়েটে অচলাবস্থার দুই সপ্তাহ

শিক্ষক দিবসে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা শিক্ষার্থীদের

শিক্ষক দিবসে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা শিক্ষার্থীদের
×

ছবি-সংগৃহীত

চুয়েট সংবাদদাতা 

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:৫৩ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:২৩

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ১৪তম দিনে গড়িয়েছে। আন্দোলনের কারণে টানা দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও।

সোমবার সকাল ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির সদস্যরা। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখান থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি স্বাধীনতা চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মানববন্ধন করেন তারা।

মানববন্ধনে চুয়েটের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. মঈনুল ইসলাম বলেন, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে তারা আন্দোলন করছেন। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যাতে আর বিলম্বিত না হয়, সে জন্য দ্রুত সমস্যার সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত অহিংসভাবে আন্দোলন করছি। কোনো ধরনের ভাঙচুর বা রাস্তা অবরোধের মতো কর্মসূচি আমরা পালন করছি না। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, আমাদের দাবি মেনে নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হোক।’

এদিকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আন্দোলনের শুরু থেকে পাশে থাকা শিক্ষকদের গোলাপ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অবস্থান কর্মসূচিতেও অংশ নেন তারা।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলকারনাইন মিহাদ বলেন, ‘আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এই দিনে যেখানে আমাদের শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা, সেখানে আন্দোলনের ১৪তম দিনেও আমাদের অবস্থান কর্মসূচিতে থাকতে হচ্ছে। দাবি পূরণের জন্য আজও আমাদের রাস্তায় থাকতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে একসঙ্গে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। আমরা চাই, অতিদ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক।’

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ওই দিনই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তারা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন।

আন্দোলনের ১৪ দিনে শিক্ষার্থীরা লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল ও মুখোশ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। উপাচার্য পুনর্বহালের দাবির বিষয়ে এখনো কোনো সমাধান না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন

×