স্কুলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কুলসুম আক্তার
নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:৩৮
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বিদ্যালয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে কুলসুম আক্তার (৯) নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাসিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
কুলসুম আক্তার নাসিরপুর গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মো. জয়নাল মিয়ার মেয়ে। সে নাসিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
বিদ্যালয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে কুলসুম সুস্থ অবস্থায় স্কুলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। সকালে ভাত রান্না না হওয়ায় তার মা তাকে মুড়ি ও চা খাইয়ে বিদ্যালয়ে পাঠান। স্কুলে পৌঁছে সহপাঠীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ খেলাধুলাও করে সে।
পরে বিদ্যালয়ের টিউবওয়েল থেকে পানি পান করে কুলসুম। এরপর সিঁড়ি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় শ্রেণিকক্ষে যাওয়ার সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যায়। পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী বিষয়টি দেখে তাকে নিচে নামিয়ে আনে। এ সময় তার মাথায় পানি দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, তখন তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল।
পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কুলসুমের পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। তার মা ও কয়েকজন শিক্ষক তাকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে কুলসুমের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পানি পান করার সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত করা হয়নি।
নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, সকালে শিশু কুলসুমকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। ময়নাতদন্ত না হওয়ায় তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কুলসুমের বড় ভাই রিয়াদ মিয়া বলেন, আমার বোন সকালে সুস্থ অবস্থায় স্কুলে গেছে। স্কুলে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছে।
কুলসুমের সহপাঠী ওবায়দুল জানায়, পানি পান করার পর সিঁড়ি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় ওঠার সময় কুলসুমের মাথা ঘুরে যায়। পরে সে মেঝেতে পড়ে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিক্তা রানী দেব বলেন, কুলসুম আমাদের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তাকে অকালে হারিয়ে আমরা মর্মাহত। অসুস্থ হওয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসহাক মিয়া বলেন, একজন শিশু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে মারা গেছে বলে জানতে পেরেছি।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুল ইসলাম সমকালকে বলেন, শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
- বিষয় :
- শিশু
- শিক্ষার্থী
- মৃত্যু