ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

হাসিল দেওয়ার পরও কৃষককে মারধর, হাট অফিস ঘেরাও

হাসিল দেওয়ার পরও কৃষককে মারধর, হাট অফিস ঘেরাও
×

ছবি: সমকাল

আক্কেলপুর  (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:০৯ | আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:৫৭

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ২৫ টাকা হাসিল দেওয়ার পরও এক কৃষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে হাট ইজারাদারের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে পৌর এলাকার কলেজ বাজারের দুই নম্বর গেটে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ কৃষক ও স্থানীয় অধিবাসীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। পরে তারা ইজারাদারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

ভুক্তিভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার রাজকান্দা গ্রামের কৃষক রনি হোসেনের ছেলে রাকিব হাসান (১৯) কলেজ বাজারে ৪৫ কেজি কচুর বই (কচুর মুখি) বিক্রি করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাজারে ২ নম্বর কলেজ গেটে পৌঁছালে হাট ইজারাদারের কর্মী প্লাবন হোসেন তাঁকে আটকে ৪০ টাকা হাসিল দাবি করেন। রাকিব ২৫ টাকা হাসিল পরিশোধ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। কিছুদূর যাওয়ার পর ইজারাদারের কর্মী প্লাবন তাঁকে আবার ধরে এনে চড়থাপ্পড় ও মারধর করেন। এ সময় ধাক্কাধাক্কিতে রাকিবের হাত থেকে মোবাইল ফোনটি মাটিতে পড়ে ভেঙে যায়।

মারধরের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে রাজকান্দা এলাকার অধিবাসী ও বাজারে আসা কৃষকরা সংক্ষুব্ধ হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ইউএনও আশিক-উর-রহমান আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের ও সমাধানের আশ্বাস দেন।

এদিকে ক্ষুব্ধ কৃষকদের অপর একটি দল বাজারে প্রবেশ করে ইজারাদারের হাট কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে পৌর বিএনপির সভাপতি আফাজ উদ্দীন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয়পক্ষকে নিয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

মারধরের শিকার কৃষক রাকিব হাসান বলেন, ‘আমি পণ্য বিক্রি করে হাসিল বাবদ ২৫ টাকা দিয়ে চলে যাচ্ছিলাম। কিন্তু ইজারাদারের লোক প্লাবন জোর করে ৪০ টাকা দাবি করে আমাকে ধরে এনে মারধর করে এবং আমার ফোন ভেঙে ফেলে। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই।’

তবে অভিযুক্ত ইজারাদারকর্মী প্লাবন হোসেন মারধরের কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ‘পণ্য বিক্রির পর হাসিলের টাকা কম দিয়ে গালিগালাজ করে চলে যাচ্ছিল। টাকা চাইতে গেলে বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে, মারধর করা হয়নি।’ অন্যদিকে কলেজ বাজার হাটের ইজারাদার বাবলু চৌধুরীর অভিযোগ, ‘ঘটনার সময় আমি ছিলাম না। পরে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হাট অফিসে হামলা চালিয়ে আমার ওপর চড়াও হয় এবং আদায়ের টাকার ব্যাগ নিয়ে যায়। বর্তমানে আমি চিকিৎসাধীন।’

থানার ওসি মেহেদী হাসান মাসুদ জানান, হাটে হাসিল তোলা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা ও উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক-উর-রহমান জানান, ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ শুনেছি। হাটে চাঁদাবাজি বা অতিরিক্ত হাসিল আদায় সহ্য করা হবে না। হাট ইজারাদারকে প্রতিটি দৃশ্যমান জায়গায় সরকার নির্ধারিত হাসিল আদায়ের মূল্য তালিকা টাঙানোর কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষকে নিয়ে দ্রুতই বিষয়টি সমাধান করা হবে।

আরও পড়ুন

×