অবৈধ সম্পদ অর্জন: সাবেক পুলিশ সার্জেন্টের ৩ বছরের কারাদণ্ড
ছবি-সংগৃহীত
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:৩৪
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দুর্নীতি মামলায় পুলিশের সাবেক সার্জেন্ট বেলায়েত হোসেনকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৮৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৪২ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মামলার নথি ও দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ পাওয়ার পর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে তার নামে ১ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৩ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এর বিপরীতে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৮ হাজার ৮৪৭ টাকা।
এ ছাড়া আয়কর নথিতে তার ঘোষিত ব্যয় ও খরচের পরিমাণ ছিল ৮৪ লাখ ৮ হাজার ৬৯১ টাকা। সম্পদ ও ব্যয় মিলিয়ে তার মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার ১৫৪ টাকা। বৈধ আয়ের সঙ্গে তুলনা করে ৯৮ লাখ ১ হাজার ৩০৭ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
অন্যদিকে, দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে বেলায়েত হোসেন নিজের নামে ৮৫ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৪ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য ঘোষণা করেছিলেন। যাচাইয়ে তার নামে ১ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৩ টাকা মূল্যের সম্পদ পাওয়া যায়। এতে তিনি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ১৭৯ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এর সহকারী পরিচালক মো. মনজুর আলম বাদী হয়ে ২০০৯ সালের ২০ জুলাই বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা প্রয়োগ করা হয়।
মামলায় দুদকের পক্ষে ১০ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।
দুদকের পিপি মো. রেজাউল করিম রনি জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই আইনের ২৭(১) ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ৭৪২ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।