ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ত্রিপুরা পূজামণ্ডপে ‘রিনা-রিসাই’ এ সেজেছেন দেবী দুর্গা

ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পাহাড়ের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে

ত্রিপুরা পূজামণ্ডপে ‘রিনা-রিসাই’ এ সেজেছেন দেবী দুর্গা
×
×

ছবি: সমকাল

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:৪৬

ধর্মীয় উৎসবে সংস্কৃতি সংরক্ষণের অনন্য প্রয়াস ছড়িয়ে পড়েছে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের খাগড়াপুরসহ বিভিন্ন ত্রিপুরা অধ্যুষিত পূজামণ্ডপগুলোতে। পাহাড়ের নিজস্ব সংস্কৃতি আর ধর্মীয় ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। ত্রিপুরা নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘রিনা-রিসাই’ ও বাহারি অলংকারে সাজানো হয়েছে দেবী দুর্গাকে। 

দেবীর এমন ব্যতিক্রমী সাজে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে খাগড়াছড়ি শহরের খাগড়াপুর পূজামণ্ডপ। 

জানা গেছে, গত নয় বছর ধরে খাগড়াপুরের পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গাকে ত্রিপুরা নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক রিনা-রিসাই ও নিজস্ব অলংকারে সাজিয়ে আসছেন স্থানীয় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের লোকজন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সপ্তমীর পূজায় ঐতিহ্যবাহী সাজে দেবীকে দেখতে মণ্ডপে ভিড় করেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা।

ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের পূজার্থী অঞ্জুলাল ত্রিপুরা বলেন, মানুষের কাছে এ আয়োজন কেবল দেবীকে সাজানোর আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং নিজেদের সংস্কৃতি, পরিচয় ও ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি প্রয়াস। তাদের বিশ্বাস, নিজস্ব পোশাকে দেবী দুর্গাকে সাজানোর মধ্য দিয়ে দেবী যেন আরও আপন হয়ে ওঠেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখা এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

ঐতিহ্যবাহী পোশাকে দেবীকে দেখে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষও। পূজার আয়োজন ঘিরে তাদের প্রত্যাশা, সারাবছর পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ের মানুষ যেন সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারেন। দর্শনার্থী পায়েল দে জানান, এই ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগে সমাজে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। 

পূজামণ্ডপে আসা একাধিক ভক্তও দেবীর ব্যতিক্রমী সাজে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও অলংকারে দেবী দুর্গার এই সাজ পাহাড়ের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরেছে। ধর্মীয় উৎসবের মধ্য দিয়ে নিজস্ব ঐতিহ্যকে ধারণ করার এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তারা প্রার্থনা করেন, পাহাড়ে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতি অটুট থাকুক।

খাগড়াপুর পূজামণ্ডপের পুরোহিত তূর্য চক্রবর্তী বলেন, ‘এ আয়োজন অন্য জেলা বা উপজেলার পূজামণ্ডপের তুলনায় আলাদা। এখানে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও অলংকার দিয়ে দেবী দুর্গাকে সাজিয়েছেন। বিষয়টি দেখে সবাই খুশি ও আনন্দিত।’

আরও পড়ুন

×