হিযবুত তাহরীরের চট্টগ্রাম প্রধানসহ গ্রেপ্তার ১৫
প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:৫৫
চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় টানা আট ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের মহানগর প্রধানসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদ, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, পাঁচলাইশ আল আমিন হাউজিং ও বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোজাফ্ফর নগর এলাকা থেকে এদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ প্রচারপত্র, দুই লাখ ৮২ হাজার টাকা, দুটি ল্যাপটপ, ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস, সংগঠনের গঠনতন্ত্র, ট্রেনিং ম্যানুয়াল ও কালেমা লেখা দুটি পতাকা উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ১৫ জন হলো- আবুল মোহাম্মদ এরশাদুল আলম, আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, মো. ইমতিয়াজ ইসমাইল, মো. নাছির উদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজমুল হুদা, মো. লোকমান গনি, মো. করিম, আব্দুল্লাহ আল মুনিম, কামরুল হাসান ওরফে রানা, মো. আরিফুল ইসলাম, মো. আজিম উদ্দিন, ফারহান বিন ফরিদ ওরফে রাফি, মো. আজিমুল হুদা, ওয়ালিদ ইবনে নাজিম ও মো. সম্রাট। গ্রেপ্তার আবুল মোহাম্মদ এরশাদুল আলম হিযবুতের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার প্রধান। তিনি চট্টগ্রামের ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক। আবদুল্লাহ আল মাহফুজ নোভারটিস ফার্মাসিউটিক্যালসের চট্টগ্রামের টেরিটরি ম্যানেজার। তিনি হিযবুতের চট্টগ্রাম শাখার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া দু'জন শিক্ষকের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ। তারা হলো- আফজাল হোসেন আতিক ওরফে আকাশ ও তাহামীদ সুফিয়ান। তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সদস্যরা নগরের বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও পোস্টার লাগানোর তথ্য পাওয়া যায়। যেসব এলাকায় পোস্টার লাগানো হয়েছে, ওইসব এলাকার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। ফুটেজ বিশ্নেষণ করে হিযবুত তাহরীরের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদে মুসল্লিদের মধ্যে লিফলেট বিতরণের সময় ওয়ালিদ ইবনে নাজিম ও মো. ইমতিয়াজ ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নগরের চান্দগাঁও আবদুল্লাহ আল মাহফুজের বাসায় অভিযান চালিয়ে মিটিং করা অবস্থায় আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের অভিযান হচ্ছে টের পেয়ে দু'জন পালিয়ে গেছে। তবে তাদের বাসা থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসংবলিত ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের রিমান্ডে এনে সংগঠনটির সদস্যদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি-না, তাদের অর্থায়ন কারা করছে, এসব বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসীন বলেন, আসামিদের চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। আদালত এরশাদুল আলমের পাঁচ দিন ও অন্য ১৪ জনের তিন দিন করে রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম
- হিযবুত তাহরীর
- অভিযান
- জঙ্গি সংগঠন
