পদ্মা ও মেঘনা অয়েল ডিপো
সিদ্ধিরগঞ্জে মাসে কোটি কোটি টাকার জ্বালানি তেল চুরি
সিদ্ধিরগঞ্জে ডিপোর গেটেই প্রকাশ্যে চলে তেল চুরি- সমকাল
শাহজাহান জনি, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:৫৪ | আপডেট: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৪:০৩
পদ্মা ও মেঘনা অয়েল ডিপোকে ঘিরে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলের বার্মাশীল ও এসও রোড এলাকায় গড়ে উঠেছে চোরাই তেল সিন্ডিকেট চক্র। বিমানের জ্বালানি তেল জেট-ওয়ান, অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, ফার্নেস ও জিওবি তেল প্রকাশ্যে চুরি করে বিক্রি করছে তারা। এভাবে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার তেল চুরি করলেও পুলিশের কোনো ভূমিকা নেই। এই তেল চুরি করে বার্মাশীল ও এসও রোড এলাকার অর্ধশত লোক কোটিপতি হয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তেল চুরি ব্যবসা ছেড়ে বেছে নিয়েছেন অন্য পেশা। মেঘনা ও পদ্মা অয়েল কোম্পানির নামমাত্র এজেন্টশিপ ও ডিলারশিপ নিয়ে এখনও অনেকেই চোরাই তেলের ব্যবসা করছে।
পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মতে, বৈধ কাগজ, ডিসির অনাপত্তিপত্র, বিস্ম্ফোরক সনদ, পরিবেশ ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের সনদপত্র ছাড়া কেউ জ্বালানি তেলের ব্যবসা করতে পারবে না এবং অয়েল ডিপোর এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো তেলের মজুদ ও তেলের দোকান করা যাবে না। এসব উপেক্ষা করে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি যুগের পর যুগ দুটি ডিপো গেট থেকে শুরু করে প্রায় ১ কিলোমিটার সড়কের দু'পাশে গড়ে তুলেছে ব্যাঙের ছাতার মতো শতাধিক চোরাই তেলের দোকান। তেল চুরিকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সংঘাত-সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটেছে। তবুও তেল চুরি বন্ধ হয়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, ডিপো থেকে তেল বোঝাই করে ট্যাঙ্কলরি গন্তব্যে যাওয়ার পথে প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের দু'পাশে শতাধিক তেল চোরচক্রের ঘুন্টি ঘরের সামনে দাঁড়ায়। এরপর গাড়ি থেকে অবাধে তেল চুরি করে নামানো হয়। স্থানীয় থানা পুলিশ এ দৃশ্য দেখেও আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ঘুন্টি ঘরে গিয়ে বসে চা, পান-সিগারেট খেয়ে বকশিশ নিয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিপো সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি মাসে লাখ লাখ লিটার জ্বালানি তেল চুরি হচ্ছে। সম্পূর্ণ বাইরে বিক্রি নিষিদ্ধ বিমানের তেল জেট-ওয়ানও অবাধে বিক্রি হচ্ছে। রঙিন কেরোসিনের সঙ্গে এক প্রকার সাদা পাউডার মিশিয়ে তেলের রং সাদা করে অকটেন, পেট্রোল ও জেট-ওয়ানের সঙ্গে মিশিয়ে পেট্রোলপাম্পসহ বিভিন্ন জায়গায় বাজারজাত করা হচ্ছে।
গত শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, এসও রোড এলাকার মন্ডলপাড়ায় অহিদুল নামে এক ব্যক্তির তেল পাল্টানোর বিশাল একটি দোকান রয়েছে। সেখানে ভেজাল তৈরি করে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
পদ্মা ডিপোর ম্যানেজার (অপারেশন) আসিফ মালিক জানান, গড়ে দৈনিক ২০-২৫ লক্ষাধিক লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। তেলচুরির বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
মেঘনা ডিপোর ম্যানেজার (অপরেশন) লুৎফর রহমান জানান, এই ডিপো থেকে দৈনিক ১৪ থেকে ১৬ লক্ষাধিক লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রচুর তেল মজুদ রয়েছে। তেল চুরির বিষয়টি তাদের আওতার বাইরে। এটি পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের দেখার কথা।
ট্যাঙ্কলরি চালকদের তথ্য মতে, শ্রমিকরা তেল বিক্রি করে কুর্মিটোলা ডিপোতে টাকা না দিলে পরিমাপের সময় তেল কম দেখানো হয়, যার কারণে বাধ্য হয়ে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডিপো দুটিতে স্থানীয় চিহ্নিত তেল চোরদের অবাধে যাতায়াত করতে দেখা যায়। অনেকেরই বিরুদ্ধে তেল চুরির একাধিক মামলা পর্যন্ত রয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায়।
মেঘনা অয়েল ডিপোর সড়কের দুই পাশে চোরাই তেলের বিষয়ে ডিপোর ম্যানেজার লুৎফর রহমান বলেন, পেট্রোলিয়াম করপোরেশন থেকে তেলের এসব দোকান উচ্ছেদ করার জন্য প্রশাসনকে এর আগে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তেল চুরি সম্পর্কে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক বলেন, তেল চুরির কোনো অভিযোগ পাইনি, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই তেল চুরিতে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।
- বিষয় :
- পদ্মা ও মেঘনা অয়েল
- অয়েল ডিপো
- পদ্মা
- মেঘনা
- সিদ্ধিরগঞ্জ
