টাঙ্গুয়ার হাওর ও যাদুকাটা নদী পরিদর্শনে ১৮ এনজিওপ্রধান
গত ২৭ নভেম্বর থেকে 'হাওরের কান্না' শিরোনামে সমকালে পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ৩০ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল- 'প্রাণ হারাচ্ছে টাঙ্গুয়া'। ৯ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল 'পাথরখেকোদের বোমা মেশিনে বাড়িঘরও ধ্বংস'
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৪:২৯
সমকালে সংবাদ প্রকাশের পর টাঙ্গুয়ার হাওর ও যাদুকাটা নদী সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন দেশের আটটি বিভাগের ১৮টি বেসরকারি সংস্থার নির্বাহী পরিচালকরা। রোব ও সোমবার পরিবেশ আইনজীবী সমিতি-বেলা ও বেসরকারি সংস্থা এএলআরডির ব্যবস্থাপনায় পরিদর্শনে গিয়ে তারা টাঙ্গুয়ার হাওর ও যাদুকাটা নদীর তীরের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।
রোববার যাদুকাটা নদীর তীরে পরিবেশ বিপর্যয়ের ঘটনা সরেজমিন পরিদর্শন করেন। যাদুকাটা নদীতীরে অবৈধভাবে বালু পাথর উত্তোলন ও পরিবেশ দূষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তারা। পরদিন সোমবার তারা পরিদর্শন করেন টাঙ্গুয়ার হাওর।
গত ২৭ নভেম্বর থেকে 'হাওরের কান্না' শিরোনামে সমকালে পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ৩০ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল- 'প্রাণ হারাচ্ছে টাঙ্গুয়া'। ২৯ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল 'পাথরখেকোদের বোমা মেশিনে বাড়িঘরও ধ্বংস'। সেসব সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতেই এনজিওপ্রধানরা যাদুকাটা নদী ও টাঙ্গুয়ার হাওরে সরেজমিন পরিদর্শনে যান।
সোমবার টাঙ্গুয়ার হাওর পরিদর্শন শেষে তাহিরপুর উপজেলা সদরে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তারা। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি সংস্থা এসএএমএসের নির্বাহী পরিচালক কৃষ্ণপদ মুণ্ডা, র্যাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এবাদুর রহমান বাবুল, চেতনার নির্বাহী পরিচালক মুসা, চলনবিল উদ্যোগ সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক এসএম মিজানুর রহমান প্রমুখ। সভায় বক্তারা বলেন, হাওরতীরের লোকজন হাওরের অতীত এবং বর্তমান পরিস্থিতির ওপর মতামত তুলে ধরেছেন। তারা জানিয়েছেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে আগে অনেক বেশি পাখি আসত এবং মাছ ছিল। এখন অনেক প্রজাতির মাছ আর দেখা যায় না। গাছ ও বন নেই বললেই চলে। এর জন্য হাওরতীরের মানুষ প্রশাসনের সঠিক নজরদারি না থাকাকে দায়ী করেন। অবাধে গাছ কাটা ও মাছ ধরার কারণে হাওরের এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকেই বলে থাকেন। তারা হাওরে বিকল্প জ্বালানি এবং বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি জানান।
একইদিন তাহিরপুর বাজারে অপর মতবিনিময় সভায় স্থানীয় কৃষক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য, জেলে ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, মৎস্যজীবীদের নাম ধরে প্রভাবশালীরাই হাওরের সম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছে। এতে মৎস্যজীবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা প্রকৃত মৎস্যজীবীদের বিল ইজারা দেওয়া, এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এবং সব সুবিধা ভোগ করার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি করেন। এএলআরডির প্রোগ্রাম অফিসার মীর্জা আজিম হায়দার বলেন, 'প্রতি বছরের মতো পরিবেশ দূষণ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এলাকাবাসীর মতামত জানতে চেয়েছি। এবার সমকালের 'হাওরের কান্না' শিরোনামে ধারাবাহিক প্রতিবেদন দেখে যাদুকাটা নদী ও টাঙ্গুয়ার হাওর পরিদর্শন করা হয়।'
রোববার যাদুকাটা নদী পরিদর্শন শেষে আদর্শ গ্রামে দুপুর ১২টায় মতবিনিময় সভায় মিলিত এনজিওপ্রধানরা। এসময় বেসরকারি সংস্থা পিইউপির নির্বাহী পরিচালক আবু হাসনাত ফারুক, হাসির নির্বাহী প্রধান অ্যাডভোকেট আকরাম হোসেন রুমি, রান-এর নির্বাহী পরিচালক রফিকুল আলম, এএলআরডির প্রোগ্রাম অফিসার মীর্জা আজিম হায়দার, বেলার সিলেট অফিসপ্রধান অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সদস্য সেলিনা আবেদীন প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, প্রভাবশালী ড্রেজার মেশিন মালিক ও প্রশাসনের কারণে এখানে সাধারণ বারকি শ্রমিকরা নির্যাতিত হচ্ছেন। তারা বারকি শ্রমিকদের নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে যাদুকাটা নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা জানান, পরিবেশ ধ্বংসকারীদের নাম ধরে ধরে উপস্থিত এলাকাবাসী নানা অভিযোগ করেছেন। এখানে পরিবেশ দূষণ গুরুতর আকার ধারণ করেছে।
- বিষয় :
- হাওরের কান্না
