ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

'আমরা গাম্বিয়ার সঙ্গে দাঁড়িয়েছি'

'আমরা গাম্বিয়ার সঙ্গে দাঁড়িয়েছি'
×

মঙ্গলবার ফজরের নামাজ শেষে রোহিঙ্গারা উখিয়া বালুখালী ক্যাম্পের পাহাড়ের ধারে জড়ো হন -সংগৃহীত

কক্সবাজার অফিস ও টেকনাফ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৫:১৮ | আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৭:২৯

রাখাইনে রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) করা মামলার শুনানি মঙ্গলবার নেদারল্যান্ডসের হেগে শুরু হয়েছে। শুনানিতে মামলাকারি দেশ গাম্বিয়াকে সমর্থন জানিয়ে কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গারা বিচ্ছিন্নভাবে ছোট ছোট সমাবেশ করার চেষ্টা করে। এ সময় 'গাম্বিয়া, গাম্বিয়া' স্লোগানে মুখর ছিল বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল 'আমরা গাম্বিয়ার সঙ্গে দাঁড়িয়েছি।' 

তবে পুলিশের বাধায় তারা সমাবেশ করতে পারেনি। পরে দুপুরে ক্যাম্পের বিভিন্ন মসজিদে জোহরের নামাজের পর বিশেষ মোনাজাত করেন রোহিঙ্গারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উখিয়ার জামতলী ও বালুখালী ক্যাম্পে ফজরের নামাজের পর 'গাম্বিয়া গাম্বিয়া' স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করেছিল কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গা। তারা ক্যাম্পের পাহাড়ের ধারে জড়ো হতে শুরু করে। তাদের হাতে ছিল ইংরেজিতে লেখা প্ল্যাকার্ড। সেখানে লেখা ছিল 'ওআইসির কাছে বিচার চাই', 'আমরা রোহিঙ্গা, আমরা গাম্বিয়ার সঙ্গে দাঁড়িয়েছি। তবে ক্যাম্পে মিছিল-সমাবেশের অনুমতি না থাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডও পুলিশ কেড়ে নেয়। রোহিঙ্গা নেতা ও মাঝিদের ডেকে মিছিল-সমাবেশসহ কোন ধরনের কর্মসূচি পালন না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। ফলে রোহিঙ্গারা কোনো সমাবেশ না করেই ঘরে ফিরে যায়। 

উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের সেক্রেটারি রোহিঙ্গা নেতা সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোনো মিছিল সমাবেশ করা হয়নি। তবে জোহরের নামাজ শেষে বিভিন্ন মসজিদে রোহিঙ্গারা বিশেষ মোনাজাত করেছেন। এছাড়া টেকনাফের লেদা, জাদিমুরো, উখিয়ার লম্বাশিয়া, মধুরছড়া ও সীমান্তের শূন্য রেখায় রোহিঙ্গারা দোয়া মাহাফিল করে মিয়ানমারের শাস্তি দাবি করেন।

এই রোহিঙ্গা নেতা বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার বিচার দাবিতে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে গাম্বিয়া মামলা করায় রোহিঙ্গারা অত্যন্ত আনন্দিত। উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা এ বিষয়ে খবর জানার চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গা ভাষায় প্রচারিত অনলাইন টিভি চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে তারা আদালতের খবর পাচ্ছেন।

কুতুপালং ২ নং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ নুর বলেন, আমরা আশাবাদী আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হবে। 

কুতুপালং ১ নং ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, আমরা মনে করছি এই বিচারের মাধ্যমে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক হিসাবে স্বীকৃত হবে।

টেকনাফের লেদা ক্যাম্পের আমির হোসেন বলেন, এত বড় অপরাধ করে পার পেয়ে যেতে পারে না মিয়ানমার। এর সুষ্ঠু বিচার না হলে রোহিঙ্গাদের ওপর আরও বেশি নির্যাতন বাড়বে। ফলে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরতে রাজি হবে না।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইবাল হোসেন বলেছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লোকজন জড়ো হওয়ায় খবর শুনেছি। তবে সেটি সমাবেশ কি-না নিশ্চিত নই। রোহিঙ্গাদের কোনো মিছিল-সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশ শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সমাবেশ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কোনো সংবাদ আমার কাছে নেই। তাছাড়া যেখানে এক সঙ্গে ৮-১০ লাখ মানুষের বসতি, তা দেখতে সমাবেশের মতো লাগে।

আরও পড়ুন

×