ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

চাঁদা না দেওয়ার জের কুলিয়ারচরে মিথ্যা মামলায় প্রবাসীর পরিবারকে হয়রানি

চাঁদা না দেওয়ার জের কুলিয়ারচরে মিথ্যা মামলায় প্রবাসীর পরিবারকে হয়রানি
×

চাঁদা না দেওয়ায় নির্মাণাধীন ভবনের পিলার ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে সিমেন্ট, রডসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে প্রভাবশালীরা -সমকাল

 কিশোরগঞ্জ অফিস

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:৩২

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ভবন নির্মাণ করতে গিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলকে চাঁদা না দেওয়ায় মামলা-হয়রানির শিকার হয়েছে এক প্রবাসীর পরিবার। মিথ্যা মামলায় পরিবারের সদস্য সিঙ্গাপুরপ্রবাসী শাহাদত মিয়া গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জেলহাজতে। একই মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন শাহাদতের দুই ভাই কুয়েতপ্রবাসী কাউসার মিয়া ও দুবাইফেরত আরশ মিয়া। শুধু তাই নয়, প্রভাবশালী মহলটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের পিলার ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়ে সিমেন্ট, রডসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে মামলার পরও পুলিশ আসামিদের ধরছে না। এতে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের ধোপাখালী গ্রামের মুছলিম মিয়ার পরিবার।

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে নিজেদের এমন অসহায়ত্বের বর্ণনা দেন গৃহকর্তা মুছলিম মিয়া ও তার মেয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাজমিন তাবাসসুম।

ভুক্তভোগী মুছলিম মিয়া জানান, তার চার ছেলে ও এক মেয়ে। চার ছেলের মধ্যে সবার বড় কাউসার কুয়েতপ্রবাসী, কুয়েতফেরত আরশ মিয়া বর্তমানে ঢাকায় পাদুকা ব্যবসা করে, শাহাদত হোসেন ও ছোট ছেলে মোশারফ সিঙ্গাপুরপ্রবাসী। একমাত্র মেয়ে তাবাসসুম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে পড়ছে।

তিনি জানান, ধোপাখালী গ্রামের বাড়ির জায়গার পরিমাণ কম হওয়ায় পারিবারিক উদ্যোগে পাশের নাসিরাকান্দা এলাকায় বাড়ি করার জন্য ৩১ শতাংশ জমি কেনা হয়। সেই জমিতে পাকা ভবন নির্মাণের জন্য কুয়েতপ্রবাসী কাউসার মিয়া ও সিঙ্গাপুরপ্রবাসী শাহাদত কয়েক মাস আগে দেশে ফেরেন। অক্টোবরে চারতলা ভবনের কাজ শুরুর উদ্যোগ নিলে স্থানীয় প্রভাবশালী মঞ্জু মিয়া পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু মুছলিম মিয়া চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মঞ্জু মিয়া ক্ষিপ্ত হন। এরই মধ্যে মঞ্জু মিয়ার বাড়িতে কে বা কারা হামলা চালিয়ে তাদের আহত করেছে অভিযোগে গত ২৪ নভেম্বর থানায় মামলা করেন। মামলায় মুছলিম মিয়ার তিন ছেলে কাউসার মিয়া, শাহাদত মিয়া ও আরশ মিয়াকে আসামি করা হয়। পরে ওইদিনই শাহাদতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে শাহাদতের দুই ভাই কাউসার ও আরশ আত্মগোপনে চলে যান।

মুছলিম মিয়ার অভিযোগ, তিন ছেলের অনুপস্থিতির সুযোগে গত ২৯ নভেম্বর রাতে মঞ্জু মিয়া ও তার লোকজন নির্মাণাধীন ভবনের পিলার গুঁড়িয়ে দেয়। তারা অস্থায়ী টিনের ঘর ভাঙচুর শেষে ট্রাকভর্তি করে সিমেন্ট, রডসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে ৫ ডিসেম্বর তাবাসসুম বাদী হয়ে কুলিয়ারচর থানায় মামলা করলেও অজ্ঞাত কারণে আসামি ধরছে না পুলিশ। এরপর থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছে প্রভাবশালী মহলটি। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মুসলিম মিয়ার স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে ০১৯২৮৬২৪৭২৪ নম্বর থেকে ফোন দিয়ে বলা হয়, 'তোদের হত্যার পর বস্তায় ভরে কোথায় ফেলব, তা কেউ জানতেও পারবে না।'

এ ব্যাপারে মঞ্জু মিয়া জানান, মুছলিম মিয়ার ছেলেরা অন্য জায়গা থেকে বালু কিনে ভবনের জায়গা ভরাট করেছেন। এ নিয়ে তার ছেলে মনিরের সঙ্গে মুছলিম মিয়ার ছেলেদের কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়েছে। তবে নির্মাণাধীন ভবনের অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

কুলিয়ারচর থানার ওসি আবদুল হাই তালুকদার জানান, তাবাসসুমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই চুরির মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন

×