পাঁচদিন পর ছোট্ট মুবিনের মরদেহ মিলল কচুরিপানার নিচে
শিশু মুবিন
ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০১:১১ | আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০২:৫৫
ঢাকার ধামরাইয়ে অপহরণের পাঁচদিন পর পরিত্যক্ত পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে পাঁচ বছরের শিশু মুবিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘাতকের স্বীকারোক্তিতে বুধবার ভোরে ধামরাইয়ের মঙ্গলবাড়ি গ্রামের পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।
মুবিন ধামরাইয়ের বাইশাকান্দা ইউনিয়নের মঙ্গলবাড়ি গ্রামের প্রবাসী আব্দুল করিমের ছেলে। গ্রেপ্তারকৃত ঘাতক আজিজুল ইসলাম ওই একই গ্রামের মফিজ উদ্দিনের বাড়ির কেয়ারটেকার। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়।
নিহতের পরিবারের বরাতে পুলিশ জানায়, গত শনিবার মায়ের কাছ থেকে পাঁচ টাকা নিয়ে বাড়ির পাশে দোকানে যায় মুবিন। এরপর আর সে বাড়িতে ফিরে আসেনি। তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ওইদিন রাতেই ধামরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মুবিনের এক স্বজন। পরে ওইদিন রাতেই মুবিনদের বাড়ির টয়লেটের কাছে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। এতে লেখা ছিল ‘মুবিনের কথা ২৪ ঘন্টা স্মরণ রাখবে’। এ ছাড়া ওই চিরকুটে একটি মোবাইল নম্বরও লেখা ছিল। এরপর সোমবার রাতে মুবিনের মামা সোহেল মাহমুদ বাদী হয়ে ধামরাই থানায় একটি অপহরণের মামলা করেন। পরে পুলিশ ওই মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরেই মঙ্গলবাড়ি গ্রামের মফিজ উদ্দিনের বাড়ির কেয়ারটেকার কুড়িগ্রামের আজিজুল ইসলামকে মঙ্গলবার রাতে আটক করে। তার স্বীকারোক্তি নিয়ে বুধবার সকালে মঙ্গলবাড়ি গ্রামের পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে মুবিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, আজিজুলের স্বীকারোক্তিতে শিশু মুবিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি জানান, গ্রেপ্তারকৃত আজিজুল ইসলামসহ তিনজন মুক্তিপণ আদায়ের জন্য মুবিনকে দোকানের পাশে একা পেয়ে অপহরণ করে। পরে মুবিন কান্নাকাটি করতে থাকায় ধরা পড়ার ভয়ে গলাটিপে হত্যার পর মুবিনের লাশ মঙ্গলবাড়ি গ্রামের পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে। এ ঘটনায় অন্য আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
- বিষয় :
- ধামরাই
- অপহরণ
- শিশুর মরদেহ
- কচুরিপানা