যশোরে ‘কিশোর গ্যাং’ শনাক্ত, গণধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার ৩
গণধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার তিন কিশোর- সমকাল
যশোর অফিস
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২০ | ০৮:৪৪
যশোরে কিশোরী গণধর্ষণের মামলা তদন্ত করতে গিয়ে একটি ‘কিশোর গ্যাং’কে শনাক্ত করেছে পুলিশ। গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তিনজনসহ ৮ সদস্য দু'দফায় কিশোরীকে ধর্ষণ করে।
গ্রেপ্তার তিন জন হলো- শহরের শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে আল আফসান পুস্প (১৫), খড়কি দক্ষিণ হাজামপাড়ার আব্দুর রশিদের ছেলে রায়হান (২০) ও সোহরাব হোসেনের ছেলে শাকিল (২০)। শনিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, গত ২ নভেম্বর এক কিশোরীকে অসুস্থ অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেয়েটি গণধর্ষণের অভিযোগ করায় ওইদিনই মামলার পর কোতোয়ালি থানা ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। ২ জানুয়ারি মামলার প্রধান আসামি পুস্পকে খুলনার সোনাডাঙ্গা থেকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসে ভয়ঙ্কর তথ্য। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গোপালগঞ্জ ও যশোর শহরের খড়কি থেকে রায়হান ও শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি জানান, এই কিশোর গ্যাং ফেসবুকসহ নানা কায়দায় মেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তাদের ধর্ষণ করে। পাশাপাশি এরা মাদকের সঙ্গেও জড়িত। গ্যাংয়ের অন্যদের আটকে অভিযান অব্যাহত আছে।
তৌহিদুল ইসলাম আরও জানান, আসামি আল আফসান পুস্প প্রথমে ওই কিশোরীর সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলে। ১ নভেম্বর রাতে মেয়েটিকে ফুসলিয়ে মোটরসাইকেলে করে খড়কি ডাক্তারবাড়ির পেছনে মেহগনি বাগানে নিয়ে যায় পুস্প। সেখানে জোর করে তাকে মদ খাইয়ে পুস্পসহ তার চার বন্ধু রায়হান, শাকিল, রবিউল ও শাহদিয়া ধর্ষণ করে। এরপর পুস্প মেয়েটিকে তাদের দু'জনেরই বন্ধু শহরের লোন অফিসপাড়ার ভাগ্নে হৃদয়ের ভাড়াবাসায় নিয়ে যায়। সেখানে দ্বিতীয় দফায় পুস্প, ভাগ্নে হৃদয়, ভাগ্নে মামুন, ন্যাটা মামুন তাকে ধর্ষণ করে। পরদিন হৃদয়, ভাগ্নে মামুন ও ন্যাটা মামুন মেয়েটিকে নিয়ে যশোর পৌরপার্কে যায়। সেখানে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
- বিষয় :
- যশোরে
- কিশোর গ্যাং
- গণধর্ষণ
- কিশোরীকে ধর্ষণ
