ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

আজই রেকর্ড হোক মেসির

আজই রেকর্ড হোক মেসির
×

সাবিনা খাতুন

সাবিনা খাতুন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬ | ০৮:৩৪

গ্রুপে আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়া নিজেদের প্রথম ম্যাচে জিতেছে। আর্জেন্টিনা তিন গোলে আলজেরিয়াকে আর জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে অস্ট্রিয়া। সে ক্ষেত্রে আমার কাছে মনে হচ্ছে, আর্জেন্টিনা এবং অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি হাড্ডাহাড্ডি হবে। প্রত্যাশার কারণে আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং হবে। প্রথম ম্যাচ জেতায় দুদলই আত্মবিশ্বাসী। আর্জেন্টিনা এবং অস্ট্রিয়া চাইবে এই ম্যাচ থেকে পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে। কেই কাউকে ছাড়বে না এই ম্যাচে। হয়তো ফেভারিট আর্জেন্টিনা, কিন্তু অস্ট্রিয়াও কম যাবে না। তারাও শক্তিশালী।

অস্ট্রিয়া যদি প্রথম ম্যাচ হারত, তাহলে তাদের একটু দুর্বল ভাবা হতো যে আর্জেন্টিনার মতো বড় দলের বিপক্ষে জয় পাওয়াটা কঠিন হবে। যেহেতু অস্ট্রিয়ার ৩ পয়েন্ট আছে, নকআউটে যাওয়ার একটা বিষয় আছে, সে ক্ষেত্রে তারাও আর্জেন্টিনাকে ছাড় দেবে না এটা নিশ্চিত। অস্ট্রিয়া যদি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জিততে পারে বা কোনো পয়েন্ট নিতে পারে, তা তাদের জন্য বড় একটা প্লাস পয়েন্ট। সেই জায়গা থেকে চিন্তা করলে ভালো একটা ম্যাচ হবে বলে আমি মনে করছি।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে সবারই চোখ থাকবে লিওনেল মেসির দিকে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর মেসি এখন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল স্কোরার। এক গোল করলেই তিনি এককভাবে রেকর্ডটি নিজের করে নেবেন। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেই এই রেকর্ডটি করবেন মেসি। তাঁর এই রেকর্ড করার সামর্থ্য আছে। আর মেসির মতো প্লেয়ারের ঝুড়িতেই এই রেকর্ডগুলো থাকা উচিত এবং সে ডিজার্ভও করে। আপনি যদি এই বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, নেইমারসহ আরও অনেক সিনিয়র প্লেয়ারের দিতে তাকান, যারা বিশ্বকাপ শেষেই অবসরে যাবেন, তাদের মধ্যে তুলনা করলে অন্যদের চেয়ে অনেকখানি এগিয়ে মেসি। নিজেকে মেলে ধরার প্রস্তুতি নিয়েই এবারের বিশ্বকাপে আসছেন মেসি। আর তিনি নিজেও ভালো করে জানে, আসলে তিনি কতখানি দিতে পারবেন এবং তিনি আসলে কী করতে পারেন। যদিও প্রথম ম্যাচে মেসি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। আমার কাছে এই বিশ্বকাপে মেসিকে বেশ ফিট লাগছে। মানে নিজেকে যত্নসহকারে গুছিয়েই এনেছেন মেসি।

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে একটা জিনিস দেখেছিলাম, মেসিকে উঠিয়ে নেওয়ার পর আর্জেন্টিনার খেলার ধার কমে গেছে। আসলে একটা প্লেয়ার যখন ৭৫ কিংবা ৮০ মিনিটের মতো মাঠে থাকেন, তাঁর সঙ্গে দলের অন্য খেলোয়াড়দের বোঝাপড়াটা ভালো হয়ে যায়। মেসির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। দল মেসির ওপর কতটা নির্ভরশীল, তাঁকে উঠিয়ে নেওয়ার পরই বোঝা গেছে। যখন মেসি মাঠ থেকে চলে গেছেন, তখন আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্সটা ছিল এলোমেলো। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, টিমের মধ্যে মেসির প্রভাব কতটা। তবে আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে আর্জেন্টিনার টিমের কেমিস্ট্রিটা। প্রত্যেকটা প্লেয়ার জানে মেসিকে কীভাবে ব্যবহার করতে হয়। তারা নিজেরাও স্বীকার করেন, মেসির ওপর কতটা নির্ভরশীল।

আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমগুলোতে দেখলাম অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। জানি না কোচের কৌশলটা কী। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, উইনিং কম্বিনেশনটা না ভাঙায়ই উচিত। যদি কোনো ইনজুরি বা দলে কোনো মেজর সমস্যা থাকে, তাহলে তো একাদশে পরিবর্তন আনাটা স্বাভাবিক।

সাবিনা খাতুন, জাতীয় নারী ফুটবলার

আরও পড়ুন

×