মেসিতে স্বপ্ন আইমারদের
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬ | ০৮:১০
আর্জেন্টিনা দলের সহকারী কোচ পাবলো আইমারকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। আর্জেন্টিনার হয়ে ৫২ ম্যাচ খেলা এ ফুটবলার তাঁর প্রজন্মের সবচেয়ে প্রতিভাবান ও সৃজনশীল অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে গর্বের পরিচয় হচ্ছে– তিনি ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা লিওনেল মেসির ‘আইডল’। শিষ্যের প্রশংসা করে এ আর্জেন্টাইন কোচ জানান, মেসিই তাদের অসম্ভবকে সম্ভব করার স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন।
১২ কি ১৩ বছর বয়সে নিউওয়েল ওল্ড বয়েজের হয়ে ফুটবল খেলতেন মেসি। ওই সময়ে তিনি তাঁর ‘আইডল’ পাবলো আইমারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। ওই সময়ে ‘এল পায়াসো’ নামে খ্যাত আইমার রিভার প্লেট দলের ১০ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় ছিলেন। তাঁর সঙ্গে হুয়ান পাবলো অ্যাঙ্গেল ও হ্যাভিয়ের সাভিওলাকে নিয়ে গঠিত রিভার প্লেট আক্রমণভাগ দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা ছিল।
এ ছাড়া ১৯৯৭ সালে আর্জেন্টিনাকে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আইমার। যে টুর্নামেন্টে আলবেসেলেস্তে দলের আক্রমণভাগে তিনি জুটি বেঁধে ছিলেন বোকা জুনিয়র্সের তারকা হুয়ান রোমান রিকুয়েলমের সঙ্গে। এই আর্জেন্টাইন তারকা ২০০১ থেকে আট মৌসুম ভ্যালেন্সিয়া ও জারাগোজার হয়ে স্প্যানিশ লা লিগায় ২১৫ ম্যাচ খেলে ৩২টি গোল করেছেন।
এ ছাড়া পর্তুগালের বেনফিকায় খেলেছেন পাঁচ বছর। সব মিলিয়ে এ তিন ক্লাবের পক্ষে বড় আসরে ৯টি শিরোপা জিতেছেন এ মিডফিল্ডার। ২০১৮ সালে জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির সহকারী হিসেবে যোগ দেন আইমার। এর পর একের পর এক সাফল্য পেতে শুরু করে আর্জেন্টিনা।
স্কালোনি আইমারদের অধীনে আর্জেন্টিনার প্রথম বড় সাফল্য পায় ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে। পরের বছর ইতালিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ‘ফিনালিসিমা’ শিরোপা ঘরে তোলে আর্জেন্টিনা। একই বছর তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে মেসিরা। ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকা আসরে শিরোপা ঘরে তোলে আলবেসেলেস্তে দল। দলের এসব জয়ে মেসির অবদান সম্পর্কে বলতে গিয়ে ৪৬ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, ‘মেসি তাদের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে। অসম্ভবকে সম্ভব করার স্বপ্ন দেখিয়েছে সে।’
ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসিকে নিয়ে গর্বের কথাও জানান আইমার, ‘যখন ভাবি, আমিই মেসির আইডল– সেটা আমাকে খুবই গর্বিত করে। একবার সংবাদপত্রে পড়েছিলাম, উরুগুয়ের কিংবদন্তি খেলোয়াড় এনজো ফ্রান্সিসকোলি সম্পর্কে একই ধরনের (আইডল) কথা বলেছেন ফরাসি তারকা জিনেদিন জিদান। তখন আমার মনে হয়েছে, জিদানের মুখ থেকে এমন প্রশংসা শুনে কেমন লেগেছে ফ্রান্সিসকোলির। আর মেসি যখন আইডল হিসেবে আমার নাম বলে তখন গর্বে আমার বুক ভরে যায়।’
বলার অপেক্ষা রাখে না, উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপেও স্কালোনি ও আইমারদের বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছেন মেসি। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন, এবারের আসরেও তিনি গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার।
আর্জেন্টিনা ভক্ত-সমর্থকরা আশায় বুক বাঁধছেন, কাতার আসরের মতো এবারও মেসির হাতেই উঠবে বিশ্বকাপ শিরোপা।
- বিষয় :
- লিওনেল মেসি
- আর্জেন্টিনা
- বিশ্বকাপ ফুটবল
