ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

ময়মনসিংহে বিদ্যুতে ঝলসে যাওয়া বানর রক্ষায় ফের আইনি নোটিশ

ময়মনসিংহে বিদ্যুতে ঝলসে যাওয়া বানর রক্ষায় ফের আইনি নোটিশ
×

ফুলবাড়িয়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বিদ্যুতের তারে ঝলসে যাওয়া একটি বানর -সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২০ | ০৮:৫৩

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে তিন শতাধিক বানরসহ বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ এবং বিদ্যুতের তারে ঝলসে যাওয়া বানরগুলোর সুচিকিৎসা চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ১০ জনকে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে বিদ্যুতের তারে ঝলসে যাওয়া বানরগুলোকে নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনও যুক্ত করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার শিহাব সাংবাদিকদের জানান, নোটিশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্টরা কোনো পদক্ষেপ না নিলে এবং নোটিশের জবাব না দিলে হাইকোর্টে রিট করা হবে।

মধুপুর বনাঞ্চলঘেঁষা ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ও নাওগাঁও ইউনিয়নে দুই হাজার ৮৬৩ একর এলাকাজুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক বনাঞ্চল। এক সময় এই বন হরিণ, মেছোবাঘ, ভালুক, হনুমান, সজারু, শিয়াল, খরগোশসহ নানা প্রজাপতির বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ছিল। গাছ কেটে বন উজাড় করায় দিন দিন বন্যপ্রাণীগুলো প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। তবে সন্তোষপুর বনাঞ্চলে তিন শতাধিক বানর রয়েছে। স্বভাবগতভাবে বানর সংঘবদ্ধ প্রাণী। একটি বানর আহত হলে অন্য বানররা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসে। কিন্তু এই বনের ভেতর কভারবিহীন তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ায় বিদ্যুৎস্পর্শে ঝলসে যাচ্ছে বানর। যখন একটি বানর আহত হচ্ছে, তখন অন্য বানররা তাকে রক্ষা করতে গিয়ে এসে তারাও আহত হচ্ছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আহত বানরের ছবি ভাইরাল হয়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার সমালোচনা ওঠে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সন্তোষপুর শালবনে বানরের খাবার নিয়ে বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ দোকান বসা। খাবারের দোকান ঘিরে রয়েছে দেড় শতাধিক বানর। বানর দেখতে আসা ২৫-৩০ দর্শনার্থী দোকান থেকে কলা, মুড়ি, বাদাম, চানাচুর, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার কিনে দিচ্ছেন। এই খাবার খেতে আসা ছোট-বড় পাঁচটি বানরকে ঝলসানো অবস্থায় দেখা গেছে। একটি বানরের হাত, আরেকটির পা পুড়ে ঝুলে রয়েছে। বানরগুলোর মুখ, হাত, পা ও শরীরের ক্ষতস্থানে পচন ধরেছে। জরুরি ভিত্তিতে আহত বানরগুলোর চিকিৎসার প্রায়োজন বলে মনে করছেন প্রাণী বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন

×