ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে রাস্তায় শিশু-কিশোররা

ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে রাস্তায় শিশু-কিশোররা
×

ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাস্তায় শিশু-কিশোররা- সমকাল

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২০ | ১০:৩৯ | আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২০ | ১১:০৯

শিশু-কিশোরদের হাতে হাতে প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা, 'ফাঁসি চাই, ফাঁসি চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই।' সেখানে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হচ্ছে এই স্লোগান। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন শিক্ষক, এলাকাবাসী ও স্থানীয় রাজনীতিকরা। সবারই এক দাবি। ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। 

মানববন্ধনে সমবেত বিক্ষুব্ধ জনতা একপর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। রাস্তায় কাঠ-টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে তারা। রোববার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্বপুর এলাকা ছিল বিক্ষোভে উত্তাল। গন্ধর্বপুরের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ধর্ষকদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে এলাকার মানুষ। বৃহস্পতিবার তুলে নিয়ে নির্যাতন করার পর শুক্রবার গভীর রাতে ওই কিশোরীকে সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় ফেলে রাখে ধর্ষকরা। এ ঘটনায় মামলার পর রোববার তৌসিফ, আফজাল হামিদ ও আবু সুফিয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে সুফিয়ান তারাবো পৌর ছাত্রলীগের সহসভাপতি।

রূপগঞ্জ পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের মধ্যে তৌসিফ (২৩) উপজেলার গন্ধর্বপুর এলাকার বাদল মিয়ার ছেলে, আফজাল (২৪) কর্ণগোপ এলাকার মৃত আবদুল হামিদের ছেলে ও সুফিয়ান (২৪) রূপসী প্রধান বাড়ি এলাকার আবুল কালামের ছেলে। এর আগে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত দুই-তিনজনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জে একটি মামলা করেন। এরপর পুলিশ নড়েচড়ে বসে এবং অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে তৌসিফ ওই স্কুলছাত্রীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা ধার নেয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গন্ধর্বপুর বাসস্ট্যান্ডে ধারের টাকা ফেরত আনতে যায় ওই ছাত্রী। টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তৌসিফ, আফজাল, সুফিয়ানসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন মেয়েটির পথরোধ করে। তাকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে রূপসী এলাকার একটি বাড়িতে দু'দিন আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর শুক্রবার গভীর রাতে (সাড়ে ৩টার দিকে) সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মৌচাক এলাকায় ওই ছাত্রীকে ফেলে রেখে ধর্ষণকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তার পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন।

এদিকে এ ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেছে এলাকাবাসী ও গন্ধর্বপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগম। ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচার ও শাস্তির জন্য নিজেও কাজ করবেন- এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীদের শান্ত করেন তিনি। এ সময় ইউএনও মমতাজ বেগম বলেন, অপরাধীরা যে দলেরই হোক না কেন, তারা কেউ পার পাবে না। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় কাউন্সিলর হোসেন আহমেদ রাজীব, গন্ধর্বপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ণ চন্দ্র সাহা, তারাবো পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার হোসেন রাসেল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ফারুক প্রধান, তারাবো পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আওলাদ হোসেন বাদল, শিক্ষক শিহাবুর রহমান, আব্দুস সোবহান, মাহমুদ সোমা প্রমূখ। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।


আরও পড়ুন

×