ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

কে হাসবেন শেষ হাসি

কে হাসবেন শেষ হাসি
×

আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমদ ও বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান

তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩:২০ | আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২০ | ১৫:০৩

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ) আসনের উপ-নির্বাচন সোমবার। নির্বাচনে ছয় প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমদ ও বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ানের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তারা দু'জনই জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। সোমবার রাতের মধ্যেই জানা যাবে নির্বাচনের ফল। নানা কারণে এবার বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে প্রয়াত সাংসদ ও জাসদ নেতা মঈনউদ্দীন খান বাদলের এই আসনের উপ-নির্বাচন। 

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও তাতে তেমন কোনো আমেজ ছিল না। এরও আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় সেটিও ছিল একেবারে আমেজহীন। কিন্তু গত নির্বাচনের এক বছরের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ উপ-নির্বাচনের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। 

প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে যে প্রচারাভিযান শুরু হয়, তা শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। পরস্পরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রচার চালান আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোছলেম ও বিএনপি প্রার্থী সুফিয়ান। ভোটারদের মন জয় করতে তারা দিয়েছেন এলাকার প্রধান সমস্যা কালুরঘাটে নতুন সেতু নির্মাণসহ নানা প্রতিশ্রুতি। ছিল আচরণবিধি ভঙ্গের পাল্টাপাল্টি অভিযোগও। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনের প্রচারকাজে ছিল টানটান উত্তেজনা। তাই এই নির্বাচনকে ঘিরে পুরো চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। নগরীর এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়ামে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। এ আসনে মোট ১৭০টি কেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। যদিও এ নিয়ে দ্বিমত রয়েছে ইসিতে। বিএনপির পক্ষ থেকে বিরোধিতা থাকলেও এ উপ-নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যবহার করা হচ্ছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। ইভিএম নিয়ে ভোটারদের ভীতি কাটাতে 'মক ভোট'সহ বিভিন্ন কার্যক্রমও চালিয়েছে ইসি।

গত ৭ নভেম্বর ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও জাসদের একাংশের কার্যকরী সভাপতি মঈনউদ্দীন খান বাদল। তার মৃত্যুতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে উপ-নির্বাচনের আয়োজন করে ইসি। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মোছলেম উদ্দিন আহমদ ও বিএনপির আবু সুফিয়ান ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এসএম আবুল কালাম আজাদ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের সৈয়দ মোহাম্মদ ফরিদ আহমদ, ন্যাপের বাপন দাশগুপ্ত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান। সেই নির্বাচনে বাদলের কাছে হেরে যান তিনি। এবারও সুফিয়ানকেই প্রার্থী করেছে বিএনপি। আর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদকে প্রার্থী করেছে আওয়ামী লীগ। এর আগে পাশের পটিয়া আসন থেকে নির্বাচন করলেও অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যান বর্ষীয়ান এই আওয়ামী লীগ নেতা। তবে এবার নিজের এলাকায় নির্বাচনের সুযোগ পেয়ে জয়ের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী মোছলেম উদ্দিন। অন্যদিকে নিজের প্রথম নির্বাচনে হেরে গেলেও দ্বিতীয় নির্বাচনে জয় পাবেন বলে আশা করছেন সুফিয়ানও।

শনিবার মধ্যরাত থেকে প্রচারাভিযান শেষ হলেও প্রার্থীরা ভোটের দিনের কৌশল নির্ধারণে রোববার কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি এবং এজেন্টদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোছলেম ও বিএনপি প্রার্থী সুফিয়ান নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ব্যস্ত সময় কাটান।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমদ সমকালকে বলেন, 'মামলার আসামিদের নিয়ে প্রচারাভিযান চালিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান। এ সময় বাঁশ আর কাপড়ে তৈরি নৌকা প্রতীক পুড়িয়ে দিয়েছেন তারা। বোয়ালখালীতে নির্বাচনী অফিসে আগুন দিয়েছেন। ককটেল ফাটিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পরিকল্পিতভাবেই তারা এসব কাজ করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আমরা ধৈর্য ধরেছি।' 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জয়লাভ করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা নিয়ে কালুরঘাটে নতুন সেতু নির্মাণসহ এলাকার সমস্যা সমাধান করতে পারবেন। এলাকাবাসীও বিষয়টি বোঝেন। তাই তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, 'প্রচার চলাকালে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে ধানের শীষের নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। নানাভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। মূলত ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি মানুষের সমর্থন দেখে ভয় পেয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এমন আচরণ করেছেন। তবে ভোটাররা ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাদের সেই আচরণের সমুচিত জবাব দেবেন।' এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'যেভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হবে কিনা সংশয় রয়েছে।'

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন এবং নগরীর পাঁচটি ওয়ার্ড নিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসন গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার চার লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৮ জন। এর মধ্যে বোয়ালখালী উপজেলায় ভোটার রয়েছেন এক লাখ ৬৪ হাজার। আর শহরে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১১ হাজার ৯৮৮ জন। ১৭০ কেন্দ্রে ভোটকক্ষ রয়েছে এক হাজার ২৫২টি।

আরও পড়ুন

×