ভাষাসৈনিক স্বামীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি চান আবেদা
দবিরুল ইসলাম
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ০৮:১২ | আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ০৯:০১
১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের এক সাহসী বীরের নাম দবিরুল ইসলাম। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল তার। তবে ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর পরও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি এই ভাষাসৈনিক।
দবিরুল ইসলামের অসুস্থ স্ত্রী আবেদা ইসলাম সমকালকে জানান, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার স্বামীর ভালো সম্পর্ক ছিল। দবিরুল ভাষা সৈনিক হলেও এখনও তাকে জাতীয়ভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের কাছে আমার দাবি-মরার আগে শুধু আমার স্বামীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেখতে চাই।’
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই আন্দোলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের নায্য আন্দোলন, পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ গঠন, যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠনসহ প্রতিটি আন্দোলনে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন ছাত্রনেতা দবিরুল ইসলাম।
তবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অভাবে ইতিহাসের স্মৃতি থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাই ভাষা সাংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী ত্যাগী এই সৈনিকের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে স্বীকৃতির পাশাপাশি পাঠ্য বইয়ে তার জীবন-দর্শন অন্তর্ভুক্ত করার দাবি পরিবারের।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভাষা সৈনিক দবিরুল ইসলাম তৎকালীন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি (১৯৪৯-১৯৫৩) ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন।
ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আইয়ুব সরকারের নির্যাতনের শিকার হন তিনি। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনকালে গ্রেপ্তার হন। তখন তার উপর ব্যাপক নির্যাতন চলে। জেল থেকে বেরিয়ে ৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। কিন্তু কারাগারে নির্যাতনের কারণে তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৬১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
