যুক্তরাষ্ট্রের তুলায় তৈরি পোশাকে আগের শুল্ক চায় বিটিএমএ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৫ | ০৪:৫২ | আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৫ | ০৬:৩৭
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায় তৈরি পোশাক দেশটিতে রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা আশা করেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা। তবে তারা বলছেন, শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা যদি সম্ভব নাও হয়, তাহলে অন্তত শুল্ক যেন আর না বাড়ানো হয়। অর্থাৎ ২ এপ্রিলের আগে পণ্যভিত্তিক গড়ে যে ১৬ শতাংশ শুল্ক ছিল সে হারই যেন বহাল রাখা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় এমন দাবি তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। বুধবার একটি ইংরেজি দৈনিকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।
ওয়াশিংটনে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের বৈঠক শুরু হয়েছে। সে আলোচনায় সরাসরি বেসরকারি খাতের কোনো প্রতিনিধি নেই। তবে সরাসরি আলোচনায় না থাকলেও পরোক্ষভাবে আলোচনায় রয়েছেন তারা।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা, সয়াবিন ও গম আমদানি বাড়াতে দেশটির সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে রয়েছে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল। বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত মঙ্গলবার ঢাকা ত্যাগ করে। তুলা আমদানি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কটন কাউন্সিলের (এনসিসিএ) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাদের।
সরকারি পর্যায়ের আলোচনায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। আরও রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজনীন কাউসার চৌধুরী। বৈঠকে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত রয়েছেন।
বিটিএমএ সভাপতি বলেন, যদি মার্কিন সরকার শুল্কমুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার দিতে রাজি না হয়, তাহলে সব ধরনের পোশাকের ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ শুল্ক বহাল রাখা হোক। বাংলাদেশ প্রতিবছর ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের তুলা আমদানি করে এবং মাত্র ৫ শতাংশ আসে আমেরিকা থেকে। অন্যান্য দেশের তুলনায় এর মানও বেশি হওয়ায় বছরে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার মূল্যের তুলা সহজেই আমেরিকা থেকে আমদানি করা সম্ভব। আমেরিকা থেকে প্রচুর পরিমাণে তুলা আমদানি করলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি তাৎক্ষণিকভাবে কমে যেতে পারে।
তিনি বলেন, কয়েক বছর আগেও আমেরিকা বাংলাদেশের বার্ষিক তুলার চাহিদার ১৮ শতাংশ পূরণ করত। সম্প্রতি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি বাড়ানোয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশ কমেছে। তিনি বলেন, উচ্চ মানের কারণে মার্কিন তুলার দাম অন্যান্য দেশের তুলনায় দুই থেকে তিন সেন্ট বেশি। এছাড়া আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে তুলা আনতে ৯০ দিনেরও বেশি সময় লাগে।
গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্বাভাবিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। ওই শুল্ক স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রাপ্তিতে সহায়তা চেয়ে দেশটির ন্যাশনাল কটন কাউন্সিলের (এনসিসিএ) কাছে চিঠি দিয়েছে বিটিএমএ। বিনিময়ে মার্কিন তুলা আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। চিঠিটি ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর এরিক গ্লেনকেও দেওয়া হয়।
ওই চিঠিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সুতা আমদানি বাড়ানোর বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সুতা সংরক্ষণে নির্ধারিত কেন্দ্রীয় গুদাম স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে সুতা আমদানি চার গুণ করা। বিটিএমএর সভাপতি বলেন, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৭ কোটি ডলার মূল্যের তুলা আমদানি করেছে বাংলাদেশ। গত বছর বিভিন্ন দেশ থেকে যত সুতা আমদানি করেছে, তার ১২ শতাংশই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সুতা আমদানির পরিমাণ চার থেকে পাঁচ গুণ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
- বিষয় :
- যুক্তরাষ্ট্র
- তৈরি পোশাক
- তৈরি পোশাক শিল্প
- শুল্ক
