ঢাকা শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

বেবিচকের দুই কর্মকর্তার বিষয়ে সংশোধিত তথ্য মন্ত্রণালয়কে দিল দুদক

বেবিচকের দুই কর্মকর্তার বিষয়ে সংশোধিত তথ্য মন্ত্রণালয়কে দিল দুদক
×

ছবি: ফাইল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ০২:০৮ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:১৯

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) উচ্চ পদস্থ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তাধীন মামলা সম্পর্কিত সংশোধিত তথ্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

বুধবার দুদক পরিচালক মোহাম্মাদ নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বেবিচকের সিভিল সার্কেল প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আমিনুল হাসিব ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী মইদুর রহমান মো. মওদুদ সম্পর্কিত তথ্য পাঠানো হয়। 

দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মার্চ মন্ত্রণালয়কে দেওয়া দুদকের একই পরিচালকের স্বাক্ষর করা চিঠিতে মোহাম্মদ আমিনুল হাসিব ও মইদুর রহমান মো. মওদুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। ভুলবশত এই তথ্য দেওয়ার পর বিষয়টি এরই মধ্যে জানাজানি হওয়ায় কমিশন থেকে সংশোধিত তথ্য পাঠানো হলো। সাধারণত সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কর্মকর্তাদের সম্পর্কে বিভিন্ন দপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বেবিচকের ওই দুই কর্মকর্তার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় দুদক থেকে তথ্য চেয়েছিল। গত মার্চে দুদক ভুলবশত এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন নেই বলে জানিয়েছিল। একই চিঠিতে তারিখ, স্মারক নম্বরসহ সব তথ্য বহাল রেখে সংশোধনী পাঠানো হয়েছে।    

বুধবার পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, দুদকের তথ্যমতে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আমিনুল হাসিবের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৭ জানুয়ারি কমিশনের ঢাকা-১ কার্যালয়ে ৮৫ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়। প্রকৌশলী মইদুর রহমান মো. মওদুদের বিরুদ্ধে একই তারিখে একই কার্যালয়ে ৮৪ নম্বর মামলা করা হয়। বর্তমানে মামলা দুটি তদন্তাধীন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের নেতৃত্বাধীন সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডে (এসএসবি) তথ্য সরবরাহ করতে মন্ত্রণালয় ওই দুই কর্মকর্তার বিষয়ে দুদকের কাছে তথ্য (ক্লিয়ারেন্স) চেয়েছিল। ভুলবশত দুদকের দেওয়া ওই তথ্যের বরাতে প্রকৌশলী মোহাম্মদ আমিনুল হাসিব তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। অপরজন এখনও পদোন্নতি পাননি। 

দুদকে সব তথ্যভান্ডারের কম্পিউটারাইজড ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) পদ্ধতি না থাকায় ওই দুই কর্মকর্তা সম্পর্কিত অভিযোগ, মামলা, চার্জশিট, আদালতে বিচারাধীন মামলার তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য চাওয়ার পর পুরোনো ফাইলপত্র ঘেঁটে তাদের বিরুদ্ধে মামলার তথ্য সহজেই যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এমআইএস পদ্ধতিতে কম্পিউটারে নির্দিষ্ট ফরমেটের যথাস্থানে ওই দুই কর্মকর্তার নাম লেখা হলে তাদের সম্পর্কিত সব তথ্য বের হয়ে আসত। সঠিক কাজ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এমআইএস পদ্ধতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুদকের জন্য বরাদ্দ বাজেটের টাকা প্রতি বছর সরকারের কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয় অথচ অবহেলা, উদাসীনতার কারণে কোনো বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করে এমআইএস সিস্টেম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পদ্ধতিগত দুর্বলতার কারণে বেবিচকের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কমিশনে কোনো মামলা তদন্তাধীন বা বিচারাধীন নেই উল্লেখ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ভুল তথ্য সংবলিত চিঠিটি পাঠানো হয়েছিল। 

এমআইএস পদ্ধতি হলো একটি কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতি বা ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের ভেতরের সব তথ্য সংগ্রহ, সাজানো, বিশ্লেষণ ও প্রকাশ করা হয়।

আরও পড়ুন

×