ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

‘বাঁধনহারা বৃষ্টিধারা’য় মুগ্ধতার সন্ধ্যা

‘বাঁধনহারা বৃষ্টিধারা’য় মুগ্ধতার সন্ধ্যা
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৪২

শ্রাবণের বৃষ্টি, মেঘ আর প্রকৃতির অনুপম সৌন্দর্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টির যে আবহ, সেই আবেশেই অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘বাঁধনহারা বৃষ্টিধারা’। রবীন্দ্রসংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায় সাজানো এ অনুষ্ঠান দর্শক-শ্রোতাদের উপহার দেয় আবেগঘন এক বর্ষাসন্ধ্যা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর ধানমণ্ডির ছায়ানট মিলনায়তনে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে এ বর্ষা-উৎসবের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি কৃষ্টি হেফাজ। তিনি বলেন, সংস্কৃতির উৎকর্ষ ধরে রাখার লক্ষ্যেই নিয়মিত মানসম্মত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের চেষ্টা করা হয়। বাঙালির সংস্কৃতি মানুষে মানুষে সৌহার্দ্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির বার্তা বহন করে। বাংলাদেশের ছয় ঋতুর মতো এ দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও বৈচিত্র্যময়।

পরে কৃষ্টি হেফাজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শ্রাবণসন্ধ্যা’ থেকে পাঠ করেন। তাঁর আবৃত্তিতে রবীন্দ্রসৃষ্টিতে বর্ষার নানা রূপ ও অনুভূতি উঠে আসে।

অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও সঙ্গীত পরিচালনা করেন মহুয়া মঞ্জরী সুনন্দা। তাঁর পরিকল্পনায় বর্ষার সৌন্দর্য, বিষাদ, বিরহ ও উচ্ছ্বাসের নানা অনুভূতি গানের সুরে ফুটে ওঠে।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনার শুরুতে ঢাকা মহানগর শাখার সম্মেলক শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন ‘শ্রাবণ মেঘের অন্ধক দুয়ার ওই খোলা’। এরপর একে একে একক পরিবেশনায় মঞ্চে আসেন অভয়া দত্ত, সঞ্জয় বনিক, দীপ্র নিশান্ত, শিমু দে ও সুমা রাণী রায়।

অভয়া দত্ত পরিবেশন করেন ‘বন্ধু রহো রহো সাথে’। সঞ্জয় বনিকের কণ্ঠে শোনা যায় ‘বর্ষণমন্দ্রিত অন্ধকারে এসেছি’। দীপ্র নিশান্ত পরিবেশন করেন ‘আমার কী বেদনা সে কি জানো’। শিমু দে গেয়ে শোনান ‘চিত্ত আমার হারালো মেঘের’, আর সুমা রাণী রায়ের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’।

বর্ষীয়ান শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী পরিবেশন করেন ‘আমার যে দিন ভেসে গেছে’। পরে নারী ও পুরুষ কণ্ঠের সম্মেলক শিল্পীরা পরিবেশন করেন ‘ও না আঁধার অম্বরে প্রচণ্ড ডমরু’।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘আজি ঝরঝর মুখর বাদরদিনে’ গানের সঙ্গে নৃত্য ও সঙ্গীতের সমন্বিত পরিবেশনা। নৃত্য ও সুরের মেলবন্ধনে তৈরি এ পরিবেশনা দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।

এ ছাড়া আবৃত্তি পরিবেশন করেন মাহমুদা আখতার। পরে সম্মেলক শিল্পীদের কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘আমার নিশীথ রাতের বাদলধারা’।

সমবেত কণ্ঠে ‘যায় দিন শ্রাবণ দিন যায়’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বর্ষাকে ঘিরে আয়োজিত এ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।

অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক নীলাঞ্জনা চৌধুরী।

আরও পড়ুন

×