এপিজির প্রতিনিধি দল
আ.লীগের সময়ে পাচারের প্রভাবের শঙ্কা আগামী মূল্যায়নে
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এপিজির প্রতিনিধি দল। ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৩৬ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২৬ | ২২:৩৭
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে কাজ করা এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানিলন্ডারিংয়ের (এপিজি) ২০২৭-২৮ মেয়াদের প্রস্তুতি ও যাচাইয়ের প্রাথমিক মূল্যায়ন শেষ হয়েছে। এপিজির একটি প্রতিনিধি দল গত ১১ থেকে ১৩ আগস্ট ঢাকা সফরে এসে বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে দেশের পুঁজিবাজার ও ব্যাংকিং খাতের নজিরবিহীন লুটপাট ও অর্থপাচারের প্রভাব আগামী মূল্যায়নে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তবে আর্থিক খাতের সংস্কার ও পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে এটি অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এপিজির তিন দিনের কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণে বিভিন্ন ইমিডিয়েট আউটকামের ওপর একাধিক সভা হয়। এর আগে, ২০০৯ সালের মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয় বাংলাদেশ। পরে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা থেকে বের হয়ে আসে। ২০১৬ সালের মূল্যায়নে এপিজি ও এর ৪২টি সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশকে ‘কমপ্লায়েন্ট কান্ট্রি’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রসঙ্গত, মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন এবং ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের বিস্তারে অর্থায়ন প্রতিরোধে একটি দেশের সার্বিক অবস্থান মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন বলা হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পরিপালনে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারণের লক্ষ্যে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানিলন্ডারিং (এপিজি) আগামী ২০২৭-২৮ মেয়াদে বাংলাদেশের মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এর আগে ২০০২, ২০০৯ ও ২০১৬ সালে বাংলাদেশের মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, সাধারণভাবে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর মানি লন্ডারিং প্রতিরোধসহ বিভিন্ন সক্ষমতার ওপর এপিজির মূল্যায়ন হয়ে থাকে। তবে করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০, ২১ ও ২২ সালে মূল্যায়ন মূল্যায়ন বন্ধ ছিলো। যে কারণে ২০১৬ সালের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এখনও পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পর এবারের মূল্যায়ন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় পড়লে ব্যবসা–বাণিজ্যসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ভ্রমণসহ অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি সমস্যা দেখা দেয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এপিজির প্রতিনিধি দলের সফরের আসন্ন মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশনের প্রস্তুতি, অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ এবং দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য কিছু কার্যক্রম চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থা, উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ এবং বেসরকারি খাতকে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করেছে। এ উপলক্ষে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বিএফআইইউ, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিসহ অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় হয়।
অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এপিজি প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধবিষয়ক জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং দেশের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কাঠামো আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সভায় উপস্থিত সদস্যরা মিউচুয়্যাল ইভ্যালুয়েশনের বিষয়ে তাদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রস্তুতির বিষয়ে অবহিত করেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কিং কমিটির সভায় বাংলাদেশের প্রস্তুতির ব্যাবহারিক দিকসমূহ, অগ্রাধিকার ক্ষেত্র নির্ধারণ, প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব এবং মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন প্রস্তুতি প্রক্রিয়ার পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
বিভিন্ন সভায় অংশ নেয় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি, দুর্নীতি দমন কমিশন, ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, কাস্টমস, সীমান্ত ও বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোকে মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়। আলোচনায় বাংলাদেশের পূর্ববর্তী মূল্যায়নের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ পর্যালোচনা, পরবর্তী সময়ের অগ্রগতি বিবেচনা এবং মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশনের অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও একটি পৃথক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যাংক, বিমা কোম্পানি, পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী, এনজিও, এনপিওসহ অন্যান্য রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেয়। কর্মসূচির সমাপনীতে গভর্নর, বিএফআইইউ প্রধানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা মূল্যায়ন বিষয়ে পুনরায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
- বিষয় :
- মানি লন্ডারিং