ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে গতি, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ খোঁজা হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:১৭ | আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:১৮
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে গতি, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ খোঁজা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে ভারতের সঙ্গে গত দেড় বছরে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল। আলোচনা করা হয়েছে- কীভাবে আগামী দিনে এই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সহজ ও ভালো করা যায়।
আজ সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ভারত আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম, চীনের পরে। তাদের সঙ্গে আমাদের অনেক বিষয় রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারত ল্যান্ড বর্ডারগুলি পুরোপুরি ফাংশনাল করা, বর্ডার হাটগুলি পুনরায় চালু করা এবং ল্যান্ড বর্ডার দিয়ে সুতা আমদানি যেটা এখন প্রহিবিটেড—সেটাকে আবার পুনরায় চালু করার ব্যাপারে আমাদের নজরে এনেছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমার বিশ্বাস, ভারতের হাইকমিশনারের উদ্যোগে এবং তার অবস্থানকালে দুই দেশের সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া কয়েকদিন আগে ভারতীয় একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তারাও দু’দেশের ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স করা এবং ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণের জন্য দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটা টাস্কফোর্স করার প্রস্তাব দিয়েছে। তো এই সমস্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্কের মধ্যে গতি আনা, ক্রমাগত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, নতুন বিনিয়োগের সুযোগ এবং ক্ষেত্র খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে—এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, এটি চলতে থাকবে।
এ সময় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনীতির বিষয়ে কিছু ইস্যু থাকবে। তবে দুই দেশের সাধারণ মানুষগেুলো কিন্তু উন্নয়ন চায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম। সেজন্য উভয়ের উন্নয়নে আমরা কাজ করবো। এইটা আমাদের সবারই দায়িত্ব।
তিনি বলেন, সবার আগে অর্থনৈতিক সুসম্পর্ক দরকার। সেটি ঠিক থাকলে অন্যান্য সম্পর্কগুলোও ভালোভাবে এগিয়ে যাবে।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দু’দেশের একটা জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রোডাকশনও দরকার। এখানকার গার্মেন্টস তো সবচেয়ে ভালো। আমরা জিপার সাপ্লাই করতে পারি, মেশিনারি সাপ্লাই করি, বোতাম সাপ্লাই করতে পারি, তাহলে কী—একটা ইন্টারডিপেন্ডেন্সি হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি যখন আমেরিকান মার্কেট, ইউরোপ মার্কেটে যাই। একটা শার্ট কিনি কিংবা টি-শার্ট কিনি, আর লেবেল দেখি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’, খুব ভালো লাগে। খুবই ভালো লাগে যে আমাদের একটা নেইবার, সব গার্মেন্টস ওখানটা আছে। এইটা আমাদের জয়েন্ট ভেঞ্চারেও করতে পারি। মূলত একই জিনিস আমরা একসঙ্গে থাকলে অনেক এগিয়ে যেতে পারবো।
- বিষয় :
- বাণিজ্যমন্ত্রী