ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

'২৫ হাজারের ঋণে গরিবেরা জেলে, ২৫ হাজার কোটির ঋণ খেলাপিরা আরামে'

'২৫ হাজারের ঋণে গরিবেরা জেলে, ২৫ হাজার কোটির ঋণ খেলাপিরা আরামে'
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২২ | ০৮:৩২ | আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২২ | ০৮:৩৪

২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায়  ১২ জন কৃষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাকে  অন্যায় ও বৈষম্য আখ্যায়িত করে মন্তব্য করেছেন সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

শনিবার  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে তারানা হালিম লিখেন, সমবায় ব্যাংকের ২৫ হাজার টাকার খেলাপি ঋণের মামলায় গরিবেরা জেলে যান, আর ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিরা আরামে ঘুমান। তিনি আরও লিখেছেন, ‘চাই সমতা। আমি গ্রেপ্তারকৃত কৃষকদের মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। প্রয়োজনে ওই ২৫ হাজার টাকা আমরা দিয়ে দেব।’

পাবনার ঈশ্বরদীতে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে করা একটি মামলায় ৩৭ কৃষকের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়ার আদাল। পরে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তাদের মধ্যে ১২ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে । ওইদিন দুপুরেই তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। 

এ বিষয়ে বিষয়টি নিয়ে আজ শনিবার সমকালকে এক প্রতিবেদনে গ্রেপ্তার ১৩ কৃষকের পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় কৃষক নেতারা দাবি করেছেন, তাদের ঋণের টাকা পরিশোধ থাকার পরও গভীর রাতে পুলিশ তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘুম থেকে ডেকে তুলে তাদের থানায় নিয়ে যায় এবং জেলা কারাগারে পাঠায়। এতে গ্রামে কৃষক ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাতে বাড়ি বাড়ি পুলিশে অভিযান দেখে অনেকেই ভয়ে দৌঁড়ে পালিয়েছেন।

ভাড়ইমারি গ্রামে কৃষক কিতাব মণ্ডল সমকালকে বলেন, গ্রামে পুলিশ এসেছে এ খবর শুনে অনেকে মনে করেছেন কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য অভিযানে এসেছে পুলিশ, এই ভয়ে অনেকে রাতেই বাড়ির বাইরে চলে যান।

ফেসবুকে পোস্টের সূত্র ধরে এ ঘটনায় তারানা হালিমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, 'খুবই লজ্জাজনক ঘটনা এটি। এ ঘটনায় আমাদের সবারই লজ্জা পাওয়া উচিত।  মানুষ ২৫ হাজার টাকার জন্য জেলে যাচ্ছেন, আর হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিরা বহাল তবিয়তে আছেন, এটা মেনে নেওয়া যায় না। কিছু মানুষ বাঁচার লড়াই করছেন আর কিছু মানুষ বিলাসিতার লড়াই করছেন। এটা নিয়ে কেউ কিছু বলছে না।’



আরও পড়ুন

×