ঘুষ লেনদেনের মামলা, মিজান-বাছিরের বিচার শুরু
ফাইল ছবি
আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২০ | ০৮:৪৯
ঘুষ লেনদেনের মামলায় পুলিশের সাময়িক বরখাস্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাময়িক বরখাস্ত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।
বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ আদেশ দেন। এ মামলায় আগামী ২৩ মার্চ সাক্ষ্য গ্রহণের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। অভিযোগ গঠনের সময় নিজেদের নিরপরাধ দাবি করেন দুই আসামি ডিআইজি মিজানুর রহমান ও খন্দকার এনামুল বাছির। সকালে তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
এর আগে এ মামলায় দেওয়া অভিযোগপত্রটি গত ৯ ফেব্রুয়ারি আমলে নেন ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। ওই দিনই মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এ বদলির আদেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।
ঘুষ লেনদেনের মামলায় গত ১৯ জানুয়ারি ডিআইজি মিজানুর রহমান এবং দুদক পরিচালক এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। এর আগে গত বছরের ১৬ জুলাই ডিআইজি মিজান ও এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহারে বলা হয়, খন্দকার এনামুল বাছির কমিশনের দায়িত্ব পালনকালে অসৎ উদ্দেশ্যে নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। ডিআইজি মিজানুর রহমানকে অবৈধ সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তার অবৈধভাবে অর্জিত ৪০ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন। ঘুষের ওই টাকার অবস্থান গোপন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানি লন্ডারিং আইনে অপরাধ করেছেন। একইভাবে ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তার বিরুদ্ধে ওঠা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আশায় অর্থাৎ অনুসন্ধানের ফল নিজের পক্ষে নেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে খন্দকার এনামুল বাছিরকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করেছেন। এ জন্য ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে পরস্পর যোগসাজশে প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
দুদকের কাছে এ ঘটনার প্রযুক্তিগত প্রমাণের পাশাপাশি চাক্ষুষ সাক্ষীও রয়েছে। ডিআইজি মিজানুর ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। তিনি গত বছরের ১ জুলাই থেকে কারাগারে আছেন।
