করোনা আতঙ্ক রাজশাহী ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা
করোনা আতঙ্ক রাজশাহী ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা- সমকাল
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২০ | ০৯:৩৪
করোনাভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কায় রাজশাহী ছাড়ছেন বাইরে থেকে নগরীতে পড়তে আসা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। গত সোমবার সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই নগরী ছাড়তে শুরু করেন তারা।
বুধবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আবাসিক হলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে এদিন বাস ও রেলস্টেশনে ছিল বাড়তি যাত্রীর চাপ।
এদিন রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল, ভদ্রা বাসস্ট্যান্ড ছিল শিক্ষার্থীর ভিড়। অনেকে সিট না পেয়ে দাঁড়িয়েও নিজ এলাকার উদ্দেশে রাজশাহী ত্যাগ করেন। আবার কিছু এলাকার শিক্ষার্থীদের আলাদা গাড়ি ভাড়া করে যেতে দেখা যায়।
বুধবার দুপুর সোয়া ২টায় রাজশাহী থেকে খুলনাগামী কপোতাক্ষ এপপ্রেসের যাত্রী ও রাবি শিক্ষার্থী কামরুল হাসান বলেন, 'করোনার ভয়াবহতার কথা চিন্তা করে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের থাকার হলগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই গ্রামে যাচ্ছি।'
রাবি ও রুয়েট সূত্রে জানা যায়, বুধবার থেকে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কার্যক্রম এবং হলগুলো বন্ধ থাকবে। বুধবার দুপুর ১২টায় রুয়েটের এবং বিকেল ৪টায় রাবির হলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
রাবির মতিহার হলের আবাসিক ছাত্র ও ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র সুজন আলী বলেন, 'আমাদের মাস্টার্সের পরীক্ষা মাত্র একটা বাকি ছিল। কিন্তু এ ছুটিতে পরীক্ষা পিছিয়ে গেল। আবার কবে বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে এবং পরীক্ষা হবে, সেটির কোনো নিশ্চয়তা নেই; কিছু করার নেই। আগে জীবন বাঁচাতে হবে। তাই প্রশাসনের নির্দেশে হল ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে।'
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. রাসেল বলেন, হল ও ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে গেছে, সে জন্য বাধ্য হয়ে রাজশাহী ছাড়তে হচ্ছে। করোনাভাইরাসের ক্ষতি থেকে বাঁচতে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। প্রশাসনও এই ভেবে হল বন্ধ করে দিয়েছে।
এ বিষয়ে রাবির জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার বলেন, 'করোনা আতঙ্কে রাবি এবং এর হলগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আপাতত ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নোটিশের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম চলবে।' রুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সেলিম হোসেনও রুয়েট সম্পর্কে একই তথ্য জানান।
