ড্রেন পরিষ্কার করতে না পারলে আত্মহত্যা করেন: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম -ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২০ | ১০:৩২
রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন কর্মকর্তাদের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ড্রেন পরিষ্কার করতে না পারলে আত্মহত্যা করেন। কাজ না করে বসে থেকে কোনো লাভ নেই।
রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় নিয়ে বুধবার সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সচিব মোস্তফা কামাল মজুমদারসহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনার এক পর্যায়ে ঢাকার ড্রেনগুলো পরিস্কার করার বিষয়ে কথা উঠলে মন্ত্রী বলেন, 'আপনাদের কী জন্য রাখছি? ভোর ৫টায় উঠে মোটরসাইকেল নিয়ে দেখা দরকার কোথায় কোথায় সুইপাররা সুইপিং করেছে, কোথায় করেনি; কোনখানে ময়লা জমা আছে। এটা যদি আপনার কাছে খারাপ লাগে, আমার কাছে খারাপ লাগে, তাহলে ভাই কথা বলে কোনো লাভ নাই। তাহলে আত্মহত্যা করেন- এটাই সবচেয়ে ভালো।'
ড্রেনে ময়লা ফেললে জরিমানা করার নির্দেশ দিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, 'আপনি যদি পানিশমেন্ট না দেন তাহলে পুরস্কারের কোনো দাম নেই। আপনাদের এটা করতে হবে। এখানে বসে যদি আপনাদের খুশি করার মতো কথা বলি, তাহলে আমি ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছি না। সুন্দর করে কথা বললে যদি কাজ না হয়, তবে অসুন্দর করে কথা বলেন। করবে না কেন? সুইপারকে সাসপেন্ড করেন, পানিশমেন্ট দেন। মানবিক কারণে এসব করেন না। কিসের মানবিক? আপনারা কাজ করেন না- আমি মানবিক হবো কেন? তাদের মাফ করা মানেই আপনি অপরাধীদের প্রশ্রয় দিলেন। দুই সিটি করপোরেশনের ইন্সপেক্টররা মাঠে আছে কি নেই- আপনাদের সেটা নিশ্চিত করতে হবে।'
এ সময় ডিএসসিসির সচিব মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, 'স্যার, আপনার কথা অত্যন্ত যৌক্তিক। প্রতিদিন যারা কাজ করছে; আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তারা জানিয়ে দেয়, ছবিও সেখানে দেয়। এখন থেকে আরও গুরুত্ব দেব।
মন্ত্রী সিটি করপোরেশনের জনবল বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, 'একটা লোক যে কাজ করতে পারবেন, তাকে যদি তার ১০ গুণ (বেতন) দিয়ে রাখেন তাহলে তো (তিনি সব) কাজ করতে পারবেন না। অতিরিক্ত লোকজনের ব্যবস্থা করেন। আউটসোর্সিং করেন।'
সভার শেষ পর্যায়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ মন্ত্রীকে বলেন, 'স্যার, বর্ষার আগেই সব ড্রেন পরিস্কার করার নির্দেশ দিয়ে দেন।' তখন মন্ত্রী বলেন, ওয়াসা ২৬টি খালের মধ্যে দুটি পরিস্কার করেছে। বাকি ২৪টি এবার পরিস্কার করবে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকায় ৩৯টি খালের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি খনন করা হয়েছে, বাকিগুলো এবার খনন করা হবে। বাকিগুলো কীভাবে খনন করা যায়, সভায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সিটি করপোরেশনও স্ব স্ব অবস্থান থেকে ড্রেন পরিস্কার করছে। জলাবদ্ধতা নিয়ে অতীতে যে রকম দুঃখজনক রেকর্ড বা তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে, এবার তার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশা করা যায়।
মন্ত্রী বলেন, এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতে সবাই স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজ করছে। দুই সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় পেস্টিসাইড মজুদ রেখেছে এবং মশক নিধনে তারা কাজ করছে।
