ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

অবরুদ্ধ শিবচর

ফোন করলেই সাহায্য পৌঁছে যাবে ঘরে

ফোন করলেই সাহায্য পৌঁছে যাবে ঘরে
×

লকডাউনের পর শুক্রবার মাদারীপুরের শিবচরে রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ে - সমকাল

মাদারীপুর ও শিবচর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২০ | ১৩:৫৬

করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে কার্যত লকডাউন শিবচর উপজেলা। প্রশাসন কাগজে-কলমে ঘোষণা না দিলেও রাস্তাঘাট, দোকানপাটে নেই জনসমাগম। বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান বাদে অন্যসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাচ্ছেন না কেউ। ফলে ব্যস্ত জনপদ এখন সুনসান রয়েছে। প্রাণঘাতী ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গতকাল শুক্রবার দুপুরের পর শিবচরের চারটি এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। ওই চারটি এলাকা হলো শিবচর পৌরসভার দুটি ওয়ার্ড, পাঁচ্চর ইউনিয়নের একটি গ্রাম ও দক্ষিণ বহেরাতলা ইউনিয়নের একটি গ্রাম। এতে উপজেলাজুড়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পুরো জেলাবাসী।
প্রশাসন জানিয়েছে, জনসাধারণকে ওই বিশেষ ব্যবস্থা গত বৃহস্পতিবার থেকে ১৪ দিন মেনে চলতে হবে। এই সময়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানোসহ জরুরি সেবা দেবে পুলিশ। ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নূর-ই-আলম মিনা গতকাল শিবচর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ওই এলাকাগুলোর লোকজনকে আলাদা থাকতে বলা
হয়েছে। যদি কারও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে পুলিশকে ফোন করলে পুলিশ বাড়িতে গিয়ে জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় পৌঁছে দেবে। তিনি আরও জানান, জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে প্রতিটি এলাকায় আলাদাভাবে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি বিদেশফেরত সবাইকে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার কাজ করছে।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান গতকাল রাতে সমকালকে বলেন, সেখানে একাধিক হটলাইন নম্বর দেওয়া আছে। মাইকিং করেও জরুরি নম্বর সরবরাহ করেছে পুলিশ। খাবার সরবরাহসহ যে কোনো প্রয়োজনে ওই নম্বরে কল করা হলে পুলিশ সহায়তা করবে। তিনি আরও বলেন, কারও যদি একেবারে জরুরি প্রয়োজন হয়, তাহলে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বাইরে যেতে পারবেন।
মাদারীপুর স্বাস্থ্য বিভাগ ভাইরাস সংক্রমণের জন্য দেশের সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করেছে শিবচর উপজেলাকে। ফলে আতঙ্কিত এই জেলার অন্য উপজেলার মানুষও। এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন কয়েকগুণ বেশি। যদিও স্থানীয় প্রশাসন বলছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।
সংশ্নিষ্ট বিভাগের সূত্র মতে, প্রবাসীদের আনাগোনা বেশি থাকায় এবং তারা হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে না চলার কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে এখন সবাই। শিবচর উপজেলায় প্রবাসী রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার। গত ১৫ দিনে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৬৬৪ জন এসেছেন এখানে, যার অধিকাংশই ইতালি প্রবাসী।
সম্প্রতি করোনা ঝুঁকিতে ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ শিবচরকে সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘোষণা দেন। এর পরই শিবচর উপজেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে যায়। অবাধ বিচরণ ও প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসনের এই নির্দেশনা মেনে চলছে সাধারণ মানুষ। কোয়ারেন্টাইন না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শিবচর নন্দকুমার ইনস্টিটিউশনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন হিসেবেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিবচরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে থাকবে পুলিশ। এ জন্য প্রায় ২৫০ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যেখানে-সেখানে অবাধ বিচরণ ও প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার জন্য স্থানীয়দের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এসব ব্যাপারে বিশেষ লক্ষ্য রাখা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো বিশেষ নজরদারিতে থাকবে।
তিনি আরও জানান, মাদারীপুরের চার উপজেলা, চার পৌরসভা ও ৬০টি ইউনিয়নে করোনা প্রতিরোধে কমিটি করেছে প্রশাসন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসন থেকে একটি সেলও গঠন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মাদারীপুরের সির্ভিল সার্জন শফিকুল ইসলাম জানান, জেলায় সম্প্রতি বিদেশ থেকে ফিরেছে অন্তত তিন হাজারের বেশি প্রবাসী, যার অধিকাংশই শিবচর উপজেলার বাসিন্দা। যে কারণে এ পর্যন্ত যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তার বেশিরভাগই শিবচরের। তাই হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাদারীপুরে বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ২৬৩ জন, চারজন আইসোলেশনে ও একজন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন।


আরও পড়ুন

×