মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে নির্দেশনা
প্রয়োজন ছাড়া `লকডাউন` শিথিল করা যাবে না
ফাইল ছবি
সাহাদাত হোসেন পরশ
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ০৯ মে ২০২০ | ১৪:৩৪
কিছুদিন ধরেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল বেড়ে গেছে। অলিগলিতে অহেতুক আড্ডা দিচ্ছে তরুণরা। আজ থেকে কোনো কোনো এলাকায় খুলবে মার্কেটও। এরই মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে নামাজ আদায় করা যাবে- এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় সীমিত আকারে চলাচল ও লকডাউন পরিস্থিতি যাতে ভেঙে না পড়ে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় নিয়ে বার্তা চলে গেছে।
সংশ্নিষ্ট একাধিক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, একবার লকডাউন ভেঙে পড়লে বা বিনা প্রয়োজনে বাইরে মানুষের চলাচল শুরু হয়ে গেলে আবার তাদের ঘরে পাঠানো কঠিন হবে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাই যাতে প্রয়োজনীয় কাজ করেন, এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। কেউ বিধি না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এমন নির্দেশনা পাওয়ার পর গতকাল থেকে আবার মাঠে পুলিশ সদস্যদের কিছুটা কঠোর হতে দেখা গেছে। লকডাউন পরিস্থিতি মেনে চলতে তারা নিজ নিজ এলাকায় বারবার টহল দিচ্ছিলেন তারা।
পুলিশ সদর দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সমকালকে জানান, মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের বলা হয়েছে- করোনা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, এটা যেন জনগণ মনে রাখেন সেদিকে নজর দিতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে কেউ যেতে পারবেন না। বাইরে বের হলে তাকে এর কারণ বলতে হবে।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, মাসের পর মাস সবকিছু যেমন বন্ধ করে রাখা যাবে না, তেমনি শর্ত দিয়ে কোনো কিছু খুলে দিলে তা মেনে চলতে হবে। আন্তঃজেলা, আন্তঃউপজেলা গণপরিবহন, যোগাযোগ, জনগণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ রাখতে হবে। সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় পিপিইসহ অন্যান্য সুরক্ষাসামগ্রী পড়ে দুর্বৃত্তদের অপরাধে জড়াতে দেখা গেছে। চলমান পরিস্থিতিতে কেউ যাতে পিপিই পড়ে অপরাধ করতে না পারে এ ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পুলিশ সদস্যরা 'পুলিশ' লেখা পিপিই পরে দায়িত্ব পালন করবেন।
মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের আরও বার্তা দেওয়া হয়েছে- কিছু নিয়ম মেনে মসজিদ ও মার্কেট খুলে দেওয়া হলেও মানুষের মধ্যে যাতে এমন ধারণা সৃষ্টি না হয় যে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। ক্ষেত্রবিশেষে পুলিশকে কড়াকড়ি আরোপের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার ব্যাপারে সবাইকে সজাগ করা হচ্ছে। পুলিশের চেকপোস্টে ডিউটি জোরদার করা হয়েছে। মার্কেট খুললেও সেখানে রোটেশন করা হবে।
শেরপুরের পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম সমকালকে বলেন, জেলার মূল সড়কে চলাচল একমুখী করা হয়েছে। বণিক সমিতি ও চেম্বারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে মার্কেটের ব্যাপারে তাদের করণীয় জানিয়ে দেওয়া হয়। বিনা কারণে এক এলাকার লোক অন্য এলাকায় যাতায়াত ঠেকাতে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের উত্তরা বিভাগের ডিসি নাবিদ কামাল শৈবাল সমকালকে বলেন, অহেতুক ঘরের বাইরে বের হওয়ার সময় এখন নয়। যে মার্কেট খুলবে সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। ব্যত্যয় হলে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম সমকালকে জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ১৪টি পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সীমিত করা হয়েছে মহাসড়কে চলাচল। এই মহাসড়ক দিয়ে দিনে গড়ে পাঁচ হাজার পণ্যবাহী ট্রাক যাতায়াত করে। সেগুলোকে নির্বিঘ্নে যেতে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মানুষ যাতে মনে না করেন পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে গেছে তার জন্য সচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে।