ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

বাজারদর

মাছ-মাংসের বাজার চড়া সবজিতে কিছুটা স্বস্তি

ডিমের ডজন ১১৫-১২৫ টাকা

মাছ-মাংসের বাজার চড়া সবজিতে কিছুটা স্বস্তি
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪০ | আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ০৯:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাজারে কিছুটা বেড়েছে মুরগির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। মাছের বাজারও চড়া। কয়েকটি জাতের মাছের দাম নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। তবে সবজি ও ডিমের বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। 

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, ১০-১৫ দিন ধরে মুরগি ও মাছের চাহিদা বেড়ে গেছে। সে হারে সরবরাহ বাড়েনি। এ কারণে দাম কিছুটা বাড়তি। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁও, মগবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাজারে এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা, যা সপ্তাহখানেক আগে কেনা গেছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়। তবে গত সপ্তাহের মতোই চড়া দেখা গেছে সোনালি জাতের মুরগির দাম। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায়। ডিমের বাজার অপরিবর্তিত। ফার্মের ডিমের ডজন কেনা যাচ্ছে ১১৫ থেকে ১২৫ টাকায়। মাসখানেক আগে ডিমের ডজন বিক্রি হয়েছিল যথাক্রমে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায়।

মাংসের দামও তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস কিনতে গেলে কেজিতে খরচ করতে হবে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।

আগারগাঁওয়ের মুরগি ব্যবসায়ী ইউসুফ আলী সমকালকে বলেন, অনেকের বাসাবাড়িতে কোরবানির মাংস শেষ। এ কারণে মুরগির চাহিদা বেড়েছে। পাইকাররা দাম বাড়িয়েছেন কেজিতে ১০ টাকার মতো। এ কারণে খুচরা বাজারে দাম বাড়তি।

কয়েকটি মাছের দাম বেশ চড়া দেখা গেছে। মানভেদে চিংড়ির কেজি ৬০০ থেকে ৮০০, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ ও ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের গায়ে যেন হাত দেওয়া যায় না। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের ইলিশ দুই হাজার ৩০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে চাষের কই, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও মাঝারি আকারের রুই মাছের দাম। এগুলোর মধ্যে চাষের কই, তেলাপিয়া ও পাঙাশের কেজি কেনা যাচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে।

কারওয়ান বাজারের মাছের আড়তদার সাইদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, মাছের বাজার কয়েক মাস ধরে প্রায় একই রয়েছে। তাঁর দাবি, চিংড়ি, রূপচাঁদা, শোল, বড় আকারের রুই– এসব মাছের দাম সব সময়ই কিছুটা বেশি থাকে। কারণ, মোটামুটি সামর্থ্যবান মানুষ এসব মাছ কেনেন। তবে ইলিশের দাম এত বেশি হওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি। এই পাইকারি মাছ বিক্রেতা বলেন, গত তিন-চার বছরে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে ইলিশের। কারণ, বাজারে মাছের চেয়ে ক্রেতা বেশি।

কিছুটা স্বাভাবিক দেখা গেছে সবজির বাজার। চিচিঙ্গা, ধুন্দল, পটোল, ঢ্যাঁড়শ, পেঁপেসহ বেশ কয়েকটি সবজি কেনা যাচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। বেগুন ও বরবটির দাম তুলনামূলক বেশি; প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা দরে। কাঁচামরিচের কেজি কেনা যাচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। মৌসুম না থাকায় টমেটোর দাম বেশ চড়া দেখা গেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। গতকাল দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। গত সপ্তাহের চেয়ে দুই থেকে তিন টাকা বেড়ে আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে। তবে টানা দুদিন বৃষ্টি হওয়ায় সবজির দাম বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। 
এ ছাড়া আগে থেকেই বেড়ে থাকা চালের বাজারে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। একইভাবে ডালের বাজার গত সপ্তাহের মতো বাড়তি দেখা গেছে।

আরও পড়ুন

×