ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গৌরবের ভাষা আন্দোলন বুকে ধারণের আহ্বান

গৌরবের ভাষা আন্দোলন বুকে ধারণের আহ্বান
×

কিশোরগঞ্জে শিশুর গালে শহীদ মিনার আঁকছেন এক তরুণী -সমকাল

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

‘ভাষার জন্য যারা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের কথা আমাদের আজীবন মনে রাখা প্রয়োজন।’ বগুড়া শহীদ মিনারে গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় ফুল দিতে এসে কথাগুলো 
বলছিলেন কবি আজিজুর রহমান তাজ। তিনি মনে করেন, ‘বর্তমান প্রজন্মকে এ বিষয়ে আরও বেশি করে জানাতে হবে। ভাষা আন্দোলন আমাদের গৌরবের একটি অধ্যায়। এটি সব সময় বুকে ধারণ করতে হবে।’

দেশের সর্বত্র মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। নিজ নিজ এলাকার শহীদ মিনারে সর্বস্তরের জনতা ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের স্মরণ করেন। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। 
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন ভট্টপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বি আর বিলকিস। তাঁর প্রত্যাশা, মহান মাতৃভাষা দিবসে সকল মানুষ ভেদাভেদ ভুলে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হবেন। 

সোনারগাঁ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি শংকর প্রকাশ বলেন, ‘একসময় মানুষ ভোরে খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতেন। সেই ঐতিহ্য আর নেই। এখন রাতের বেলায় শহীদ মিনারে ফুলের শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাজনৈতিক নেতারা তাদের দলীয় প্রধানদের নামে স্লোগান দেন। মাতৃভাষার জন্য যাদের অবদান, তাদের নামে স্লোগান হয় না। আমরা চাই মাতৃভাষার জন্য যারা শহীদ হয়েছেন, আগামীতে তাদের নামে স্লোগান হবে।’

ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আসা রাজবাড়ী একাডেমির সভাপতি ও সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘একুশের চেতনার ধারাবাহিকতাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। সেই চেতনাকে আমরা লালন ও ধারণ করি। এ কারণেই বারবার শহীদ মিনারে ছুটে আসি। একুশের চেতনা আমাদের জীবন ও সমাজে প্রতিফলিত হবে। আমরা আশা করি, বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা হবে। এই দিনটি আমাদের জাতিগত সংহতি, ঐক্য এবং মানবিকতার এক শক্ত বার্তা হয়ে উঠবে বলেও আশা করছি।’
কিশোরগঞ্জ পৌর মহিলা কলেজের আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওমর ফারুক বলেন, ‘আমরা কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে রাতের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিয়েছি। গত বছরের তুলনায় আমার যেমন, অন্যদের মাঝেও একটা নিরাপত্তাবোধ ও স্বস্তিবোধ ছিল। গত বছর সব জায়গাতেই আতঙ্ক ও অস্বস্তি কাজ করত। এবার নির্বাচিত সরকার থাকায় পুরো শহীদ মিনার এলাকাতেই একটা স্বস্তির ভাব ছিল।’

বিশিষ্টজনের শ্রদ্ধা 
সিলেটে একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। চট্টগ্রামে শুরুতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রথম প্রহরে বরিশাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান বিভাগীয় কমিশনার মাহফুজুর রহমান। পরে অন্যরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শুরুতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল। পরে বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আশরাফুল ইসলামসহ অন্যরা ফুল দেন। 

এদিন ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সালামনগরে সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে। দুপুরে ভাষাশহীদ আবদুস সালাম গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের সামনে আলোচনা সভা হয়। মানিকগঞ্জে ভাষাশহীদ রফিক উদ্দীন আহমেদ, ভাষাসৈনিক মিরান উদ্দিন ও মো. ওয়াজ উদ্দীনের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দিয়েছে প্রশাসন।
নওগাঁর ধামইরহাটে জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’ গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার বেলা ১১টায় আগ্রাদ্বিগুণ বাজারে মজিবুর রহমান স্মৃতি গ্রন্থাগারে ছিল এই আয়োজন। এস এম খেলাল ই রব্বানীর সভাপতিত্বে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় স্কুল-কলেজের ৩০ শিক্ষার্থী। এ ছাড়া দেশের সব জেলা-উপজেলায় দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। 
(তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধি)
 

আরও পড়ুন

×