চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের ঘাটতি নেই, লোডশেডিং বন্ধে ১৮০ দিনের পরিকল্পনা
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ১৬:৫৩
দেশে চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তবে গ্রীষ্মকালে প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি ও সঞ্চালন সীমাবদ্ধতায় মাঝে মাঝে বিদ্যুৎবিভ্রাট ঘটে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেছেন, গ্রাহকের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে ও লোডশেডিং বন্ধে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। তবে গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঝে মাঝে কিছুটা বিদ্যুৎবিভ্রাট ঘটে। ফলে ওই সময়ে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না।
বিদ্যুতের চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় লোডশেডিং বন্ধে বিদ্যুৎ বিভাগের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম ও পরিকল্পনার কথা সংসদে তুলে ধরেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।
তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হচ্ছে। এছাড়া প্রাথমিক জ্বালানির চাহিদা মোকাবিলায় জ্বালানি বহুমুখীকরণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপে ময়মনসিংহ, ঘোড়াশাল এবং নারায়ণগঞ্জের ৭৪টি মনোনীত ভোক্তার স্থাপনায় জ্বালানি নিরীক্ষা কার্যক্রম চলছে। শিল্প ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় এ কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে ৪২ জন সনদপ্রাপ্ত জ্বালানি নিরীক্ষক এবং ১৭৮ জন সনদপ্রাপ্ত জ্বালানি ব্যবস্থাপক তৈরি করেছে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে হলি-ডে স্ট্যাগারিং এবং ডিমান্ড ও সাপ্লাই সাইড ম্যানেজমেন্ট করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি অফিস ভবনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দক্ষ ব্যবহারে গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখা, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা পরিহার এবং ব্যবহার শেষে সুইচ বন্ধ করার বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
পিক আওয়ারে বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, পিক আওয়ারে পানির পাম্প, ওভেন, হিটার, ইস্ত্রির দোকান, ওয়াশিং মেশিন ও ওয়েল্ডিং মেশিন বন্ধ রাখার বিষয়ে গণশুনানির মাধ্যমে গ্রাহকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে পিক আওয়ারে মার্কেট ও শপিংমলে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা পরিহারের জন্য নিয়মিত ভিজিলেন্স টিম কাজ করছে।
এছাড়া অটোচার্জিং স্টেশনগুলোকে পিক আওয়ারে চার্জ না করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে এবং অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার রোধে প্রতিনিয়ত রাত্রীকালীন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও সংসদকে জানান মন্ত্রী।
