সংসদে রেলপথমন্ত্রী
ভারত থেকে আসবে ২০০ ব্রডগেজ কোচ
শেখ রবিউল আলম
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৫৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
ভারত থেকে আনা হবে ২০০ ব্রডগেজ কোচ। বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য এই বছর ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে ভারত থেকে এসব কোচ সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা। রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এ কথা জানিয়েছেন। জামায়াতের এমপি ইলিয়াস মোল্লা ও রুহুল আমিনের পৃথক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান মন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রকল্পের আওতায় আগামী জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর নাগাদ ২০০টি ব্রডগেজ কোচ রেলওয়ে বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা যায়। এগুলো পাওয়া সাপেক্ষে নতুন ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে রেলওয়ে রুট নির্ধারণে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
বিএনপির এমপি মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে রেলপথমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ৩ হাজার ৪২৮ দশমিক ০৯ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। এর মধ্যে মিটারগেজ এক হাজার ৫৯১ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার ও ব্রডগেজ এক হাজার ৬৬ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং ডুয়েলগেজ ৭৭০ দশমিক ০৬ কিলোমিটার। এ ছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে বাস্তবতার নিরিখে ব্রডগেজ ও ডুয়েলগেজ নতুন রেললাইন স্থাপনের মাধ্যমে রেলওয়ের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কার্যক্রম চলমান।
সরকারদলীয় এমপি মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে রেলপথমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর সঙ্গে ১৫টি আন্তঃনগর ট্রেন চালু আছে। ভারত থেকে কোচ আসা শুরু হলে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় আন্তঃনগর ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করা এবং পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে রেলওয়ের রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য অদূর ভবিষ্যতে ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ, ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ ও ৫০টি মিটারগেজ লোকোমেটিভ সংগ্রহ করার জন্য প্রকল্প অনুমোদনের কাজ চলমান।
এসি বাসের ভাড়ার তালিকা তৈরি করা হবে
স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, শিগগিরই এসি বাস ও মিনিবাসের ভাড়ার তালিকা তৈরি করা হবে। তালিকা গণপরিবহনের অভ্যন্তরে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে প্রদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরকারদলীয় এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জানান, পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) উদ্যোগে গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জিপিএস প্রযুক্তি চালু হলে গণপরিবহনের অবস্থান ও গতি সহজে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এতে বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এ ছাড়া সড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম ও ট্রাফিক আইন অমান্য করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ক্রয় কার্যক্রমে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণের ভিত্তিতে ৮১টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন মেয়াদে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। আইন ও বিধির আলোকে কোনো ব্যক্তি বা ক্রয়কারী সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী পেশাগত অসদাচরণে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, যা চলমান প্রক্রিয়া। এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুসারে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা বর্তমানে চলমান ।
সরকারদলীয় এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানান, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯টি মিল চালু আছে। বন্ধগুলো চালু করার পরিকল্পনা আছে।
২০২০ সালের ১ জুলাই সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা এবং ২০টি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা ভিত্তিতে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়। ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা হয়েছে। অবশিষ্ট ৬টি মিল ইজারা প্রদানের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান। বাকি মিলগুলোও সরকার ঘোষিত (যদিও সেটি বিএনপির দলীয় দফা) ৩১ দফার আলোকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।
সরকারদলীয় এমপি মোহাম্মদ আলি আসগারের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানান, ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের ৩০টি দেশে পাট ও ১৩৮ দেশে পাটপণ্য রপ্তানি করা হয়।
সরকারদলীয় এমপি এ.ই. সুলতান মাহমুদ বাবুর প্রশ্নের জবাবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৬টি বিভাগীয় শহরে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট) নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সেল এবং নির্যাতিত নারীদের সাময়িক অবস্থানের জন্য ‘সেফ হোম’ রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল টোল ফ্রি হেল্পলাইন-১০৯ এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হয়।
তিনি জানান, বর্তমানে ১৪টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মোট ৩৭টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। দেশে ৭টি বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে।
- বিষয় :
- শেখ রবিউল আলম
