বিপিএমআই-তে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ১৭:৫৮
বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিপিএমআই) ক্যাম্পাসে অত্যাধুনিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়েছে। টেকসই জ্বালানি সম্প্রসারণে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে কেন্দ্রটি ভূমিকা পালন করবে।
বৃহস্পতিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মুজাফফর আহমেদ। জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশনের মাধ্যমে জিআইজেড বাস্তবায়িত ‘স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ফর সাসটেইনেবল এনার্জি সলিউশনস’প্রকল্পের মাধ্যমে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন এই কেন্দ্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সিমুলেশন এবং ফোটোভোল্টাইকসের জন্য বিশেষায়িত ল্যাবরেটরি রয়েছে, পাশাপাশি বায়ু শক্তির সম্ভাব্যতা মূল্যায়নের জন্য একটি আবহাওয়া স্টেশনও স্থাপন করা হয়েছে। শুধু অবকাঠামোই নয়, বাংলাদেশ ও জার্মান সরকারের যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ কারিকুলামের আধুনিকায়নও করা হয়েছে। আধুনিক সোলার পিভি মডেলিং এবং বায়ু শক্তির সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণকে কারিকুলামের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিশ্চিত করতে স্কিল প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে ৫২ জন প্রশিক্ষককে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পেশাজীবীদের কাছে উচ্চমানের প্রযুক্তিগত জ্ঞান পৌঁছে দেওয়া।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে বিপিএমআই রেক্টর মোঃ সবুর হোসেন বলেন, উন্নত অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সুবিধাদি বিপিএমআইকে দেশের টেকসই জ্বালানি রূপান্তরে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম করবে। জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য উন্নত প্রযুক্তির সাথে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জার্মান দূতাবাসের কাউন্সেলর ও জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশনের প্রধান উলরিখ ক্লেপম্যান। তিনি বলেন, ‘টেকসই জ্বালানি রূপান্তর শুধুমাত্র প্রযুক্তির বিষয় নয়, এর সাথে মানুষ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষ করে নারী ও তরুণ পেশাজীবীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন বাংলাদেশের সবুজ জ্বালানির পথে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই যাত্রাকেই নিশ্চিত করতে চায়। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি এই অঙ্গীকারের-ই প্রতিফলন, যার মাধ্যমে আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করতে পারবো।’
বাংলাদেশের ২০২৫ সালের নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালায় ২০৪০ সালের মধ্যে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহের ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে। এছাড়াও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) অর্জনের জন্যেও দেশে ব্যাপকভাবে টেকসই জ্বালানির প্রসার প্রয়োজন।
এই লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের জন্য সৌরবিদ্যুৎ ও বায়ুবিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সেইসাথে তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান। জ্বালানি রূপান্তরকে ফলপ্রসূ করার জন্য সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও প্রশিক্ষক প্রয়োজন। বিদ্যুৎ খাতে সরকারি ও বেসরকারি খাতে কর্মরত প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে বিপিএমআই কাজ করে যাচ্ছে বলে জানানো হয়।
- বিষয় :
- প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে
- উদ্বোধন
