খরা ও পোকার আক্রমণে ঝরছে আম-লিচুর গুটি
তীব্র খড়ায় আমের গুটি ঝরে পড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। লালপুরের ওয়ালিয়া গ্রামে সমকাল
ঈশ্বরদী (পাবনা) ও লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:৫৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
পাবনার ঈশ্বরদীতে টানা তাপদাহ ও খরার কারণে গাছ থেকে ঝরে পড়ছে লিচুর গুটি। এতে চলতি মৌসুমে লিচুর ভালো ফলনের যে আশা করা হয়েছিল, তা ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আর এক সপ্তাহ তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে লিচুর উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
দেশি লিচুর মধ্যে জনপ্রিয় মোজাফফরি ও বোম্বাই জাতের লিচুর গুটি প্রতিদিনই ঝরে পড়ছে। ঈশ্বরদীর বিভিন্ন গ্রামে এ বছর প্রতিটি গাছেই রেকর্ড পরিমাণ মুকুল এসেছিল। পরে সেগুলো গুটিতে পরিণত হয়ে গাছ সবুজ কড়ি লিচুতে ভরে উঠেছিল। এতে কৃষকরা ভালো ফলনের আশা করেছিলেন।
মিরকামারী গ্রামের লিচু চাষি আমিরুল সরদার বলেন, ‘গাছে প্রচুর মুকুল আসায় ভালো আয়ের আশা ছিল। কিন্তু খরায় গুটি ঝরে পড়ায় এখন দুশ্চিন্তায় আছি।’ একই কথা জানান, বড় লিচু চাষি আব্দুল জলিল কিতাব মণ্ডল।
মিরকামারী, মানিকনগর, বক্তারপুর, জগন্নাথপুর, বাঁশেরবাদা, জয়নগর, সাহাপুর এলাকায় সারি সারি লিচুর বাগানে এখনও সবুজ গুটির সমারোহ দেখা গেলেও তাপদাহের প্রভাব স্পষ্ট। কৃষক সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ বলেন, ‘গাছে লিচুর পরিমাণ বেশি হলেও খরতাপে গুটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১ এপ্রিল থেকে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মোমিন জানান, এ বছর ঈশ্বরদীতে ৩১শ হেক্টরের বেশি জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় শুরুতে ভালো মুকুল এলেও বর্তমান তাপপ্রবাহ লিচুর গুটি ঝরে পড়ার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রত্যাশিত ফলন না হওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মোমিন জানান, এ বছর ঈশ্বরদীতে ৩১শ হেক্টরের বেশি জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় শুরুতে ভালো মুকুল এলেও বর্তমানে তাপপ্রবাহ লিচুর গুটি ঝরে পড়ার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে প্রত্যাশিত ফলন না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তীব্র খরা ও পোকার আক্রমণে নাটোরের লালপুরে আমের গুটি ঝরে পড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। পানি সেচ ও কীটনাশক প্রয়োগ করেও ঝরা ঠেকাতে পারছেন না চাষি। এতে চলতি মৌসুমে আমের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ওয়ালিয়া গ্রামের আম চাষি আব্দুল ওয়াহাব জানান, তাঁর সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে হিমসাগর ও আম্রপালি জাতের আমের বাগান রয়েছে। মৌসুমের শুরুতে গাছে প্রচুর মুকুল ও গুটি এলেও তীব্র খরার কারণে গাছ থেকে গুটি ঝরে পড়ছে। তিনি বলেন, ‘সেচ দিতে চাই, কিন্তু তেলের সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। কীটনাশক দিয়েও গুটি ঝরা বন্ধ করা যাচ্ছে না’।
সরেজমিন বিভিন্ন বাগান ঘুরে একই চিত্র
দেখা গেছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় এক হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। হেক্টরপ্রতি ১২.৭ টন হারে মোট ২২ হাজার ৯২৩ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আম চাষি মাহবুর রহমান বলেন, তাঁর তিন বিঘা জমিতে আম্রপালি জাতের বাগানে ভালো মুকুল ও গুটি এসেছিল। কিন্তু বৃষ্টির অভাব ও খরার কারণে গুটি শুকিয়ে ঝরে যাচ্ছে। ‘হপার পোকার আক্রমণও বেড়েছে। দুবার সেচ ও স্প্রে করেও কোনো লাভ হয়নি।’ গত কয়েক বছর লোকসানের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এবারও ফলন কম হলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
মৌসুমি আম ব্যবসায়ী শুভ আলী বলেন, গত বছর ঋণ নিয়ে বাগান কিনে লোকসান গুনতে হয়েছে। এবারও একই পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন। গাছ ভর্তি গুটি ছিল, কিন্তু খরায় অর্ধেক ঝরে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, ‘এবার প্রায় ৮০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছিল। কিন্তু খরার কারণে গুটি ঝরে পড়ছে। কৃষকদের নিয়মিত সেচ ও হপার পোকা দমনে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
- বিষয় :
- ফল
