ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই সড়কের কাজ শেষ

বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই সড়কের কাজ শেষ
×

খুলনার কয়রায় তিন কিলোমিটার সড়কের মাঝে ২০টি বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। রোববার উপজেলার মহারাজপুরে সমকাল

কয়রা (খুলনা) ও আলফাডাঙ্গা  (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ০৭:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনার কয়রা ও ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় দুটি সড়কের মাঝখানে পল্লী বিদ্যুতের ২৪টি খুঁটি রেখেই সম্প্রতি শেষ হয়েছে দুটি সড়কের নির্মাণকাজ। এতে যানবাহন চলাচল ও পণ্য ওঠানামায় দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও জনসাধারণ। 

কয়রার মহারাজপুর ইউনিয়নের গ্র্যাজুয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে হায়াতখালী বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়কেই রয়েছে বিদ্যুতের ২০টি খুঁটি। এলজিইডি সূত্র জানায়, তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য ২০২৩ সালের ৩০ মার্চ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসআর ট্রেডার্সকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল কাজটি শেষ করার কথা ছিল। পরে দুই দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পর চলতি বছরের মে মাসে নির্মাণকাজ শেষ হয়। 

ইউনিয়নের হায়াতখালী বাজার থেকে মঠবাড়ি মধ্যপাড়া হয়ে গ্র্যাজুয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে শেষ এই হয়েছে সড়ক। মঠবাড়ি সেতু থেকে মহারাজপুর পর্যন্ত দুই কিলোমিটারের মধ্যে ২০টি বিদ্যুতের খুঁটি সড়কের মাঝখানে রেখেই পিচ ঢালাই দেওয়া হয়েছে। 
মহারাজপুর গ্রামের কামরুল গাজী বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি রাখায় যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের জন্য এ পথ ব্যবহারকারী মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে।  

ভ্যানচালক আলমগীর হোসেনের ভাষ্য, এভাবে রাস্তার মাঝে খুঁটি থাকলে রাতের বেলায় চলাচল করতে তাদের বেশি অসুবিধা হবে।
মহারাজপুর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নুরুল ইসলাম মনে করেন, বিদ্যুৎ বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতার কারণে এমন হয়েছে। সড়ক উন্নয়নের কাজ শেষ হওয়ায় এখন যানবাহন চলাচল বেড়ে যাবে। বিদ্যুতের খুঁটির কারণে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন তিনি। 
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কয়রা জোনাল অফিসের ডিজিএম মাহাফুজুর রহমান বলেন, নির্মাণাধীন কোনো সড়কে খুঁটি থাকলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা স্থানান্তরে লিখিত আবেদন করতে হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস খুঁটি স্থানান্তরের খরচের পরিমাণ জানিয়ে থাকে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টাকা জমা দিলে খুঁটি সরানোর ব্যবস্থা করা হয়। হয়তো খরচ বাঁচাতে খুঁটি অপসারণ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে অবহিত করতে চায়নি।  
এ বিষয়ে ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণে কোনো বরাদ্দ না থাকায় এভাবেই কাজ শেষ করতে হয়েছে। সড়কে খুঁটি থাকায় নির্মাণকাজের সময়ও তাদের ঝামেলা পোহাতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।  

কয়রা উপজেলা প্রকৌশলী শাহীন শোয়েব বলেন, বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণে আলাদা বরাদ্দ নেই। এ কারণেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এভাবে কাজ শেষ করেছে। পরে বরাদ্দ এলে খুঁটি সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
পণ্য ওঠানামায় ঝুঁকি
আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদর বাজারে ১৯ ফুট দীর্ঘ প্রধান সড়কে চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের পণ্য ওঠানামা করার সময় দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
আলফাডাঙ্গা পৌরসভার প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, সদর বাজারের আলফাডাঙ্গা চৌরাস্তা থেকে সাবেক পরিবহন স্ট্যান্ড পর্যন্ত ৫২০ মিটার সড়কে এক কোটি ২২ লাখ টাকা খরচে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিফাত এন্টারপ্রাইজ। তাদের সময় বেঁধে দেওয়া হয় এক বছর। সড়কে চারটি বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই কয়েক মাসের মধ্যে তারা ঢালা কাজ শেষ করেছে। 
হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী শামিম মোল্যার দোকানের সামনে পড়েছে এমন একটি খুঁটি। তিনি বলেন, ‘অনেকবার বিদ্যুৎ অফিসে খুঁটি সরানোর কথা বলেছি। কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। হাটের দিনে আমাদের কেনাবেচায় সমস্যা হচ্ছে।’

বাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী ত্রিনাথ পাল বললেন, ‘দুই দিন পরপর আমাদের চালের গাড়ি আসে। বাজারে একটি গাড়ি ঢুকলে অন্য গাড়ি যেতে পারে না। বাজারের প্রধান সড়কে চারটি খুঁটি ব্যবসায়ীদের বড় সমস্যায় ফেলেছে। আমরা দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান চাই।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিফাত এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মোহাম্মদ ছোটন জানান, ‘আমাদের ঢালাই কাজ হওয়ার পর বিভিন্ন জটিলতায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিমান্ডের টাকা দিতে দেরি হয়েছে। চলতি মাসের ১৪ তারিখে তাদের চাহিদানুযায়ী টাকা জমা দিয়ে দিয়েছি।’
আলফাডাঙ্গা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব-জোনাল অফিসের এজিএম আশীস কুমার রায় বলেন, ‘খুঁটি সরানোর বিষয়টি জানার পরও আমাদের কিছু করার ছিল না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আমরা ডিমান্ড দিয়েছি। ঢালাইয়ের কাজ শেষ হলেও তারা টাকা দিতে ৫-৬ মাস দেরিতে চলতি মাসের মাঝামাঝি টাকা জমা করেছে। আমাদের এ কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের 
লোকবল কম থাকায় এখনই কাজ করা যাচ্ছে না। ঈদের ছুটির মধ্যে কাজ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, বিদ্যুৎ অফিসের এজিএমকে খুঁটি সরাতে বলা হয়েছে। লোকবল কম থাকায় খুঁটি সরাতে কয়েক দিন দেরি হতে পারে।

আরও পড়ুন

×