ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

রাতে ভিডিও কলে মেয়েকে দেখেন বাবা, সকালে হারিয়ে গেল সেই আনন্দ

রাতে ভিডিও কলে মেয়েকে দেখেন বাবা, সকালে হারিয়ে গেল সেই আনন্দ
×

শিশুটিকে কোলে নিয়ে আহাজারি করছেন দাদি জানু বেগম। ছবি: সমকাল

দ্রোহী তারা

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬ | ২১:৪১ | আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ | ২১:৫৪

মঙ্গলবার রাত ৩টা। সৌদি আরব থেকে ভিডিও কল করেন সাইদুল ইসলাম। মোবাইল ফোনের পর্দায় দেখেন তিনদিনের মেয়েকে। বাবা হওয়ার আনন্দে বারবার হাসছিলেন তিনি। দূর থেকে আদর করেন মেয়েকে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন আনন্দভরা কণ্ঠে। এটিই বাবা-মেয়ের শেষ দেখা। কয়েক ঘণ্টা পর রাজধানীর আদ-দ্বীন হাসপাতালে ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে এসির গ্যাস লিকেজের ঘটনায় মারা যায় শিশুটি। তখনও তার নাম রাখা হয়নি।

হাসপাতালে গিয়ে স্বজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিবারের প্রথম সন্তান হওয়ায় শিশুটিকে ঘিরে ছিল অন্যরকম আনন্দ। মা ফারিয়া সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। প্রবাসী বাবা প্রতিদিন ভিডিও কল করতেন। কিন্তু মঙ্গলবার গভীর রাতের সেই ভিডিও কল এখন পরিবারের কাছে স্মৃতি।

শিশুটির ফুপু জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, ‘রাত তিনটার দিকে ওর আব্বু ভিডিও কলে বাচ্চার সঙ্গে কথা বলে। তখন বাচ্চা পুরোপুরি সুস্থ ছিল। আমার ভাবির কাছেই ছিল বাচ্চা।’ ফজরের আজানের কিছু পর পরিস্থিতি বদলে যায়। শিশুটির দাদি মোছা. জানু বেগম জানান, পাশের অন্য শিশুদের কান্নার শব্দ পাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু তাদের শিশুটি নিশ্চুপ ছিল।

জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, ‘আমার আম্মু দেখে অন্য বাচ্চারা কান্না করতেছে, কিন্তু আমাদের বাচ্চা কান্না করছে না! তখন কাছে গিয়ে দেখে ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছে না, খুব কষ্ট হচ্ছিল।’

এরপর শিশুটিকে দ্রুত অন্য নবজাতকের সঙ্গে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, সেই সময় থেকে তাদের শিশুটির কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জান্নাতুল বলেন, ‘আমি চারবার গেছি, কিন্তু ঢুকতে দেয় নাই। ভাইরে পাঠাইছি, তাকেও ঢুকতে দেয় নাই। পরে রাগ করার পর ঢুকতে দিছে। ঢুকে আমার ভাই কান্না করে বলে- বোন, বাচ্চা নাই।’

পরিবারের সদস্যরা জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে কিছু জানায়নি। শিশুটির মা ফারিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানান স্বজনেরা। শিশুটির দাদি বলেন, ‘মায়ের কলিজা ছিঁড়া গেছে। তিনদিনের বাচ্চা… নামও রাখা হয় নাই।’

কেউ শিশুটিকে ‘বাবু’, কেউ ‘নাতিন’, আবার কেউ ‘বইন’ বলে ডাকতেন। ছোট্ট শিশুটিকে ঘিরে পুরো পরিবারে ছিল উৎসবের আবহ। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই ঘরে নেমে আসে শোক।

আজ বুধবার মাগরিবের পর ঢাকার দোহারে গ্রামের বাড়িতে শিশুটিকে দাফন করা হয়। 

হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, ‘একটা হাসপাতালে এসি লিক করবে, গ্যাস লিক করবে- এসব কি? অবহেলায় কতগুলো বাচ্চা মারা গেল!’ তিনি আরও বলেন, ‘রাত ৩টায় বাবা ভিডিও কলে মেয়েকে দেখল, আর সকাল হওয়ার আগেই সেই বাচ্চা মারা গেল! এটা কোনো পরিবার মানতে পারবে না। আমার ভাই পারলে যেন উড়ে চলে আসে। একটু পর পর ফোন দিচ্ছে।’

আরও পড়ুন

×