শার্শায় পুলিশ পেটানোর মামলা
মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হলো বিএনপি নেতাকে
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
যশোর অফিস
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৩:০৯
যশোরের শার্শায় পুলিশ সদস্যকে পেটানো মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে মবের শিকার হয়েছে পুলিশ। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাঁর অনুসারী ও এলাকাবাসীকে জড়ো করে তাঁকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মোস্তফা কামাল মিন্টু শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
মব সৃষ্টি করে পুলিশের কাছ থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতার দাবি, ওয়ারেন্ট ছাড়াই পুলিশ জোরপূর্বক তাঁকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় এলাকাবাসী পুলিশকে বাধা দিয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে শার্শা থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি যৌথ দল শ্যামলাগাছি গ্রামে গিয়ে মোস্তফা কামাল মিন্টুকে তাঁর বাড়ির সামনের মোড় থেকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় মিন্টুর সমর্থকরা গ্রামের একাধিক মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে প্রতিরোধের আহ্বান জানায়। মাইকে বলা হয়, মিন্টুকে পুলিশ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এই ঘোষণা শুনে কয়েকশ নারী-পুরুষ সেখানে জড়ো হয়ে পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে মব সৃষ্টি করে আসামিকে ছিনিয়ে নেয় তারা। জনরোষের মুখে মিন্টুকে রেখেই ফিরে যেতে বাধ্য হয় পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
জানা গেছে, স্থানীয় শ্যামলাগাছি গ্রামের নায়েক মামুন হাসান জুয়েল বর্তমানে ট্যুরিস্ট পুলিশের হেডকোয়ার্টারে কর্মরত। ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসে গত ২৯ মে তিনি হামলার শিকার হন। পূর্বশত্রুতার জেরে সন্ত্রাসীরা তাঁকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই গত বৃহস্পতিবার শার্শা থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও পাঁচ-ছয়জনের নামে মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয় বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল মিন্টুকে। অপর আসামিরা হলেন– মিন্টুর ভাই লাল্টু হোসেন ও পিন্টু হোসেন, স্থানীয় আবদুস সালামের ছেলে সুজন হোসেন ও সবুজ হোসেন, আলাউদ্দিনের ছেলে টিটন হোসেন।
শুক্রবার দুপুরে আহত পুলিশ সদস্যের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশীরা জানান, ছুটি শেষে মামুন কর্মস্থলে ফিরে গেছেন। আর আসামিদের হুমকি-ধমকির ভয়ে পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।
মামুনের ছোট চাচা সফিয়ার রহমান প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর চাঁদার দাবিতে তাঁর ভাইয়ের (মামুনের বাবা) ১৫ লাখ টাকার বালু আটকে রেখেছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এ ব্যাপারে সম্প্রতি মামুন উপজেলা বিএনপি নেতাদের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মিন্টুর নেতৃত্বে তাঁর লোকজন মামুনের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় পুলিশ মিন্টুকে আটক করতে আসায় আসামিরা এখন পুরো পরিবারের ওপর ক্ষুব্ধ। আমরা সবাই আতঙ্কে আছি। বাড়িতে ঘুমাতে পারছি না।’
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল মিন্টু। তিনি দাবি করেন, পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় আমি জড়িত নই। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে মামলা নেই। ওয়ারেন্ট ছাড়াই জোরপূর্বক পুলিশ আমাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় এলাকাবাসী জড়ো হয়ে আমাকে মুক্ত করেছে।
জানতে চাইলে শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন বলেন, পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ মামলা হয়েছে। ওই মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা কামাল মিন্টুকে গ্রেপ্তার করতে গেলে মব সৃষ্টি করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
