বৃষ্টিতে কমেছে তাপপ্রবাহ, আপাতত স্বস্তির আভাস
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৩:২১
টানা অন্তত চার দিনের তীব্র তাপপ্রবাহের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ অঞ্চল থেকে আপাতত বিদায় নিয়েছে তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন দিন তাপমাত্রা মোটামুটি স্বাভাবিক থাকতে পারে। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোথাও মৃদু তাপপ্রবাহও দেখা দিতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার দেশের ৩৮টি জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। এর আগের দিন বুধবার এ সংখ্যা ছিল ৪৮। চলতি বছরে এক দিনে এত বিস্তৃত এলাকায় তাপপ্রবাহের ঘটনা এটিই ছিল সর্বোচ্চ। রাজধানী ঢাকায়ও টানা তিন দিন তাপপ্রবাহ ছিল। বৃহস্পতিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
তবে গতকাল শুক্রবার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়। দেশের প্রায় সব এলাকা থেকেই তাপপ্রবাহ সরে গেছে। শুধু কক্সবাজার জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত ছিল। সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে ঢাকার তাপমাত্রা নেমে আসে ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। অর্থাৎ, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে রাজধানীর তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবীর বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তাপমাত্রা কমেছে। এ পরিস্থিতি আরও দুই থেকে তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হয়েছে। সর্বোচ্চ ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে ভোলায়। চাঁদপুরে ৩৯ মিলিমিটার এবং টাঙ্গাইলে ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় এ সময়ে ২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে যে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, তা মূলত পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে। এখনও দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটেনি। সাধারণত মে মাসের শেষ দিনগুলোর মধ্যেই টেকনাফ উপকূল দিয়ে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তবে এবার সেই প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ু দেশে প্রবেশ করতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। আর তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে ১০ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এদিকে জুন মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। শুধু জুন নয়, পুরো বর্ষা মৌসুমেই বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ুবিদদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরে বিদ্যমান এল নিনো পরিস্থিতি এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
দেশে সাধারণত এপ্রিল ও মে মাসে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। তবে চলতি বছর এ দুই মাসে তাপমাত্রা তুলনামূলক কম ছিল। এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। কিন্তু বর্ষা মৌসুম শুরুর সময়েও মৌসুমি বায়ুর অনুপস্থিতি আবহাওয়াবিদদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হলে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। এতে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমে আসবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহ থেকে আপাতত স্বস্তি মিললেও বর্ষা মৌসুমের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
