ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে গোপন নেটওয়ার্ক

ইরান যুদ্ধে আজারবাইজানেও ঘাঁটি গড়েছিল ইসরায়েল

ইরান যুদ্ধে আজারবাইজানেও ঘাঁটি গড়েছিল ইসরায়েল
×

উত্তর ইরানের জোলফায়, আজারবাইজান সীমান্তবর্তী আরাস নদীর একটি অংশের দিকে নজর রাখা একটি ইরানি পর্যবেক্ষণ মিনার। ছবি: আত্তা কেনারে/এএফপি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৩:৪৭

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে একটি শক্তিশালী গোপন সামরিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল ইসরায়েল। এই গোপন অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের প্রতিবেশী দেশ আজারবাইজানে এলিট মিলিটারি ও গোয়েন্দা ইউনিট মোতায়েন করেছিল তেল আবিব। মূলত ইরানের অভ্যন্তরে নিখুঁত ও বিধ্বংসী অভিযান পরিচালনার সুবিধার্থেই এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত চারটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজারবাইজানের দক্ষিণাঞ্চলে ইরানের সীমান্তঘেঁষা বেশ কয়েকটি গোপন ঘাঁটিতে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান নিয়েছিল। এই ঘাঁটিগুলো ইরানি শহর তাবরিজ থেকে মাত্র ৬০ মাইল দূরে। শহরটিতে যুদ্ধের সময় ইসরায়েল ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছিল। এই ঘাঁটি থেকে বিশেষ কমান্ডো ইউনিটগুলো ড্রোন পরিচালনা ও তথ্য সংগ্রহের কাজ করত।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই গোপন নেটওয়ার্ক শুধু আজারবাইজানে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও আফ্রিকার সোমালিল্যান্ডেও ইসরায়েলের এমন একাধিক গোপন সামরিক ও গোয়েন্দা ঘাঁটি ছিল। ফলে যুদ্ধের সময় ইরানের উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম– তিন দিকেই অবস্থান নেয় ইসরায়েলি বাহিনী। তবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত আজারবাইজান দূতাবাস এক বিবৃতিতে এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।

আজারবাইজানে যেভাবে গড়ে ওঠে ঘাঁটি

মূলত যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই আজারবাইজানে এই কৌশলগত প্রস্তুতি শুরু করে ইসরায়েল। গত জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়। সে সময় ইসরায়েল সীমান্ত এলাকায় আড়ি পাতার যন্ত্র ও অত্যাধুনিক গোয়েন্দা সরঞ্জাম স্থাপন করে।

পরে এই ঘাঁটি থেকেই গত ৪ মার্চ ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) গোয়েন্দাপ্রধান রহমান মোকাদ্দামকে হত্যা করা হয়। এর পরদিনই আজারবাইজানের নাখচিভান বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এ ছাড়া ৬ মার্চ আজারবাইজানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে আইআরজিসির একটি বড় হামলা নস্যাৎ করে। সেখান থেকে মোসাদ ও আজারবাইজানের যৌথ অভিযান পরিচালনা হচ্ছিল বলে পরে ইসরায়েল স্বীকার করে।

সোমালিল্যান্ড, ইরাক ও আরব আমিরাতে তৎপরতা

হর্ন অব আফ্রিকার বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল সোমালিল্যান্ডও ইসরায়েলকে গোপন সামরিক সুবিধা দিয়েছিল। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান জ্বালানি নেওয়ার ট্রানজিট হিসেবে জায়গাটি ব্যবহার করত। এ ছাড়া যুদ্ধের সময় ইরাকে দুটি গোপন লজিস্টিক ও উদ্ধারকারী ঘাঁটি পরিচালনা করেছিল ইসরায়েল।

অন্যদিকে আরব আমিরাতে গোপনে একটি আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যাটারি ও সেনা মোতায়েন করেছিল তেল আবিব।

ইরানের সঙ্গে চুক্তির প্রয়োজন নেই ট্রাম্পের

রয়টার্সের খবর অনুসারে, ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার নিয়ে আসার জন্য তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা চাইলে এখনই তা পেয়ে যেতে পারি, তারা আমাদের আটকাতে পারবে না। তবে এর প্রয়োজন নেই, কারণ এটি এখন চাপা পড়া অবস্থায় আছে।’

তিনি বলেন, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলি খামেনির সঙ্গে বৈঠকের কোনো ইচ্ছা নেই। তবে চুক্তি হলে সেটি সম্ভব। আর যদি এমন কিছু ঘটে, তবে আমি অবশ্যই সম্মান প্রদর্শন করব।’

এদিকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো অবস্থাতেই কোথাও স্থানান্তর করা হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি কখনও বাস্তবায়ন হবে না।

খামেনির ওপর হামলার সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা জানালেন আরাঘচি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর ইসরায়েলি হামলার সময় একই ভবনে অবস্থান করার সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। লেবাননের আল-মায়াদিন টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সেদিন সকাল ৯টার দিকে জেনেভা বৈঠকের প্রতিবেদন দিতে আমি সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ে যাই। আলোচনার সময়ই ভবনটিতে ভয়াবহ হামলা হয়। ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়েই আমার প্রথম চিন্তা ছিল সর্বোচ্চ নেতা নিরাপদ আছেন কিনা।’ আরাঘচি পরে জানতে পারেন খামেনি শাহাদাত বরণ করেছেন।

আরও পড়ুন

×