সমাবেশে ১১ দলের নেতারা
সীমান্তে হত্যা-পুশইনের প্রতিবাদে জামায়াত জোটের বিক্ষোভ
মদিনা সনদের কথা বলে মোদির সনদে চলছে বিএনপি
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক অবৈধভাবে ঠেলে পাঠানো (পুশইন), সীমান্তে হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে - সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৮:০৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
সীমান্তে হত্যা এবং বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিকদের ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচি থেকে জোটের নেতারা ভারত, দেশটির সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির কড়া সমালোচনা করেন। ভারতকে যথাযথ জবাব না দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেও সমালোচনা করেন তারা।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ১১ দল। এর আগে গত শনিবার দেশের সীমান্তবর্তী জেলা এবং অঞ্চলগুলোয় বিক্ষোভ করেছিল জামায়াত জোট। ১১ দলের ব্যানারে কর্মসূচি হলেও খেলাফত আন্দোলন সপ্তাহ দুই আগে জোট ত্যাগ করায় তারা কার্যত ১০ দলের জোটে পরিণত হয়েছে।
শাহবাগ মোড়ে কয়েক হাজার মানুষের সমাবেশ করে ১১ দল। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল প্রেস ক্লাব হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধের দাবিতে এতে জোটের হাজারো নেতাকর্মী যোগ দেন। মিছিলের কারণে শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবনমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে অফিসফেরত যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
ভারত আগ্রাসী আচরণ করছে অভিযোগ
করে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের কাছে মাথা নত করেনি, করবে না।
১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আব্দুল বাতেন আনসারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আলী কাসেমী, বিডিপির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশিরসহ ১১ দলের নেতারা।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার জনগণ পুশইন রুখে দিতে বিজিবিকে সহযোগিতায় প্রস্তুত। বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। কিন্তু কেউ যদি বন্ধুত্বের বেশে দাদাগিরি করতে চায়, তবে এদেশের জনগণ মেনে নেবে না। সীমান্ত সমস্যা সমাধানে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক চাই।
ভারতের সীমানা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি বাংলাদেশ শ্রদ্ধাশীল জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, একই সম্মান ভারত দেখাতে পারেননি। ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিন্নের বার্তা দিয়েছে। শহীদ ওসমান হাদির খুনিকে ফেরত না দিয়ে চুক্তি ভঙ্গ করেছে।
ভারত মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে অভিযোগ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ভারত মুসলমানদের ওপর জুলুম-
নির্যাতন চালিয়েছে।
নাসীর বিএনপি সরকারের উদ্দেশে বলেন, যদি মুজিববাদের পথে হাঁটেন, তবে আবার মুজিববাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, সীমান্ত হত্যা ও পুশইনে জনগণ উদ্বিগ্ন হলেও আমাদের সরকার উদ্বিগ্ন নয়। সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছে ‘এটি সীমান্ত হত্যা নয়’! তাহলে সীমান্ত হত্যা কাকে বলে, তা স্পষ্ট করুক সরকার।
ভারতের উদ্দেশে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, দাসত্বের আওয়ামী লীগ এদেশে আর ফিরবে না। এদেশের মানুষ বিপ্লবী, প্রতিবাদী। সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ না করলে এদেশের জনগণ রুখে দাঁড়াবে।
মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের দালাল হলেই নিয়োগ দেওয়া হয়; নাকি নিয়োগ পাওয়ার পর এরা দালাল হয়ে যায়? পররাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলছেন দীপু মনির ভাষায়, হাসান মাহমুদের ভাষায়। শেখ হাসিনাকে পুশইন করার দাবি জানান তিনি।
রাশেদ প্রধান বলেন, বিএনপি মদিনা সনদে দেশ পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখন মোদির সনদে দেশ চালাচ্ছে। যারাই মোদির সনদে চলেছে, তাদের ঠিকানা ভারতে হয়েছে।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নতুন সরকারও ভারতীয় সেবাদাস সরকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে না পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে ভারত চলে যান।
অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইস। দলটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তাদের বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফর, সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্রকে আরও অর্থবহ করে তুলতে সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও উন্নয়নের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। জ্বালানি খাতের উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয়
নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি, মারজিয়া আক্তার এমপি, মারদিয়া মমতাজ এমপি, অস্ট্রেলীয় হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি হ্যারি থমসন ও অ্যানা পিটারসন।
জামায়াত কর্মী হত্যার বিচার দাবি
সোমবার রাজবাড়ীর কালুখালীতে জামায়াত কর্মী আসাদুজ্জামানের হাত-পা বাঁধা অগ্নিদগ্ধ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার দাবি করেছেন গোলাম পরওয়ার। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, নির্মমভাবে হত্যার পর হাত-পা বাঁধা লাশে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা চরম বর্বরতা, নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ। এমন ঘটনা আইয়ামে জাহেলিয়াতকে হার মানিয়েছে। আসাদুজ্জামানের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে, দেশের নাগরিকদের কোনো নিরাপত্তা নেই।
- বিষয় :
- সীমান্তে হত্যা
