ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

৬ বিভাগে টানা বৃষ্টি, উত্তর পূর্বাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

৬ বিভাগে টানা বৃষ্টি, উত্তর পূর্বাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে দেশের ছয়টি বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে উজানে ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদনদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহের কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ১১ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, পার্বত্য তিন জেলা, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগেও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বান্দরবানে। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ২৩০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ১৯৪ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ১৭৫ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ১৬৫ মিলিমিটার, শ্রীমঙ্গলে ১৬০ মিলিমিটার এবং দিনাজপুরে ১১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কেন্দ্রটির ১২৭টি সমতল পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৬৯টিতে নদনদীর পানি বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে।
উজানে ভারতের বিভিন্ন এলাকায়ও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোচবিহারে ১০৪ মিলিমিটার, আগরতলায় ৮৮ মিলিমিটার, সাবরুমে ৮৫ মিলিমিটার ও মনুঘাটে ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। 

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু স্থানে নদনদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এসব জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর বিভাগের পাশাপাশি ফেনী, কুমিল্লা ও নোয়াখালীর নিচু এলাকায়ও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সর্দার উদয় রায়হান বলেন, আগামী তিন থেকে চার দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বৃষ্টির প্রবণতা কমে এলে নদনদীর পানিও দ্রুত নামতে শুরু করবে। তাই দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা আপাতত কম।
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের প্রভাবে জলীয়বাষ্পসমৃদ্ধ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এই আর্দ্র বায়ু চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল, ভারতের ত্রিপুরা এবং মিয়ানমারের রাখাইন পর্বতমালায় বাধাপ্রাপ্ত হয়ে একই এলাকায় বারবার মেঘ তৈরি করছে। ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনও বেশি রয়েছে।’

আরও পড়ুন

×