অভিবাসী কর্মীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে প্রয়োজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা
কর্মশালায় বক্তারা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬ | ১৪:৩৪
অভিবাসী কর্মীদের অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বস্তুনিষ্ঠ এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই। সংবাদমাধ্যমে প্রতারণা ও শোষণের প্রকৃত চিত্র উঠে এলে তা একদিকে যেমন জনসচেতনতা বাড়ায়, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য করে।
এই লক্ষ্যে সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে ‘অভিবাসন অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক ‘প্রেস ক্যাফে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে এবং হেলভেটাস বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘স্ট্রেনদেনড অ্যান্ড ইনফরমেটিভ মাইগ্রেশন সিস্টেমস (সিমস)’ প্রকল্পের (২য় পর্যায়) ‘অ্যাক্সেস টু জাস্টিস’ কার্যক্রমের আওতায় জেলা পর্যায়ে এই আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের সূচনা পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনডব্লিউএলএ-এর পরিচালক মোর্শেদ বিলাল খান। অভিবাসী কর্মীদের আইনি জটিলতা নিরসন ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে গণমাধ্যমের অপরিসীম গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমেই অভিবাসন খাতের নানাবিধ অসংগতি ও কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা সম্ভব। এরপর সিমস প্রকল্পের লক্ষ্য ও বিস্তারিত রূপরেখা নিয়ে একটি উপস্থাপনা পেশ করেন সংস্থাটির প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাফাতুর রহমান রুবা।
এই প্রেস ক্যাফেতে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিক, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত থেকে তাদের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও মূল্যবান মতামত বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে অভিবাসন খাতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রমাণ-ভিত্তিক ও নৈতিক সাংবাদিকতা এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কলাকৌশল নিয়ে বিশেষ সেশন পরিচালনা করেন প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও অভিবাসন বিষয়ক সাংবাদিকতায় বিশেষজ্ঞ মো. মহিউদ্দিন এবং হেলভেটাস বাংলাদেশের সিমস প্রকল্পের (নিরাপদ অভিবাসন) সমন্বয়কারী সাজ্জিদ আহমেদ।

মুক্ত আলোচনায় বক্তারা জানান, নিজ দেশ থেকে শুরু করে গন্তব্য দেশ– উভয় স্থানেই অভিবাসী কর্মীরা প্রতিনিয়ত নানাবিধ গুরুতর প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে দালালের মাধ্যমে প্রতারণা, কর্মক্ষেত্রে শোষণ এবং আইনি সহায়তার অভাবে তারা পদে পদে বাধাগ্রস্ত হন।
বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেন, অভিবাসী শ্রমিকদের এসব সমস্যা গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে উঠে এলে তা একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা তৈরিতে সাহায্য করবে। পরিশেষে উপস্থিত সকলেই এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন– তথ্যসমৃদ্ধ, অনুসন্ধানী ও পেশাদার সাংবাদিকতাই পারে অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথকে সুগম করতে।
- বিষয় :
- কর্মশালা
- সাংবাদিকতা
- অভিবাসন
- অভিবাসী