জোট মহাসচিব কাউ জানালেন
বাংলাদেশের আসিয়ানের সদস্য হওয়ার ‘সম্ভাবনা নেই’
কাউ কিম। ছবি: সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:২৭ | আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:২৮
বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউগিনির (পিএনজি) দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। জোটটির শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসিয়ান চার্টারের প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক অবস্থানগত শর্ত পূরণ করতে না পারায় দেশ দুটির এই সুযোগ নেই।
ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম জাকার্তা গ্লোবের খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউগিনি দীর্ঘদিন ধরেই আসিয়ানের সদস্যপদ পাওয়ার আশা ব্যক্ত করে আসছে। এমনকি পিএনজিকে প্রকাশ্যে সমর্থনও দিয়েছিল সদস্য রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া। তবে আসিয়ানের মহাসচিব কাউ কিম হর্ন সম্প্রতি নিশ্চিত করেছেন, পূর্ব তিমুরই শেষ দেশ হিসেবে এই জোটে যুক্ত হয়েছে। এখানে আর কাউকে নেওয়া হবে না।
গত ২৯-৩০ জুলাই ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত দশম আসিয়ান মিডিয়া ফোরামে কথা বলতে গিয়ে কাউ কিম বলেন, আমাদের জোট সম্প্রসারণ এখানেই শেষ হয়েছে।
তিনি কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, আসিয়ান চার্টার অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত দেশের সংখ্যা মাত্র ১১। এখানেই শেষ। পিএনজি ও বাংলাদেশ এই নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের বাইরে অবস্থিত।
আসিয়ান চার্টার মূলত এই জোটের আইনি কাঠামো। এই দলিল অনুযায়ী নতুন সদস্য নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত বেঁধে দেওয়া আছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, আবেদনকারী দেশকে অবশ্যই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বীকৃত ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত হতে হবে।
ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে পিএনজি ওশেনিয়া মহাদেশের অংশ, আর বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায়। ঢাকা ও পোর্ট মোর্সবির জন্য আসিয়ানের সদস্য হওয়ার একমাত্র উপায় হলো যদি ১১ দেশের এই জোটটি তাদের চার্টার বা সংবিধানে সংশোধন আনে। তবে এ ধরনের যে কোনো সংশোধনের জন্য সব সদস্য দেশের সর্বসম্মতির প্রয়োজন হয়।
কাউ স্পষ্ট করে বলেন, যতক্ষণ না সদস্য দেশগুলো সনদ সংশোধন করে ভূগোলকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ১১ দেশ নিয়েই গঠিত থাকবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা আসিয়ান।
২০১১ সাল থেকে চেষ্টা চালানোর পর দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অবশেষে গত বছর আসিয়ানের সদস্যপদ পেয়েছে পূর্ব তিমুর। এই প্রক্রিয়া এতটাই দীর্ঘ ছিল যে, পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোর্তা রসিকতা করে বলেছিলেন, আসিয়ানের দরজায় প্রবেশের চেয়ে স্বর্গে প্রবেশ করা হয়তো সহজ।
গত বছর আসিয়ানের সভাপতির দায়িত্বে ছিল মালয়েশিয়া। ওই সময় কুয়ালালামপুরের সমর্থন আদায়ে তদবির চালিয়েছিল ঢাকা। অন্যদিকে, পাপুয়া নিউগিনির সদস্যপদের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন ঘোষণা করেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো।
- বিষয় :
- সদস্য