ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

জুলাই অভ্যুত্থান দমনে ব্যবহার হয় তিন লাখের বেশি গুলি

শোনানো হলো ওবায়দুল কাদের ও শেখ পরশের ফোনালাপ

জুলাই অভ্যুত্থান দমনে ব্যবহার হয় তিন লাখের বেশি গুলি
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে পঞ্চম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। এদিন প্রসিকিউশন থেকে দাবি করা হয়, অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই ব্যবহার করেছিল তিন লাখের বেশি গুলি।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ গতকাল মঙ্গলবার এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। পরে ওবায়দুল কাদের ও যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশের উপস্থাপিত ফোনালাপটি শোনানো হয়।

এদিন যুক্তিতর্কের শুরুতেই জুলাই আন্দোলন দমনে চায়না রাইফেল, পিস্তল, এলএমজি, শটগান রিভলভার থেকে শুরু করে হেলিকপ্টার ব্যবহারের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ছোড়ার বর্ণনা দেন প্রসিকিউটর তামিম। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর পুলিশ তথ্য দিয়েছিল, জুলাই আন্দোলনে তিন লাখ পাঁচ হাজার ৩১১ রাউন্ড গুলি খরচ করা হয়েছে। শুধু ঢাকায় খরচ হয়েছে ৯৫ হাজার ৩১৩ রাউন্ড। এ ছাড়া দেশের ৪১ জেলার ৪৩৮ স্থানে ঘটেছে হত্যাকাণ্ড। পঞ্চাশের বেশি জেলায় ব্যবহৃত হয়েছে মারণাস্ত্র।

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ড্রোন ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের শনাক্তের পর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে গুলি ছোড়া হয়।
যুক্তিতর্কের শুরুতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের ভূমিকা বর্ণনা করা হয়।
এদিন ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাদ্দামের একটি ফোনালাপ শোনানো হয়। ১৪ জুলাই কাদেরের উস্কানিমূলক বক্তব্যের কিছু অংশ পড়ে শোনান তিনি। তাঁর দাবি, শীর্ষ নেতাদের ধারাবাহিক এসব উস্কানিতে ১৫ জুলাই দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকহারে হামলা চালান আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইনানের একটি ফোনালাপও শোনানো হয়।

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ১৫ জুলাই ঢাবি এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের মধ্যে ছাত্রলীগ ছাড়াও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীরা ছিলেন। 
যুক্তিতর্কের এই পাঁচ দিনে সাত আসামিরই আলাদা আলাদা ভূমিকা নিয়ে প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন বক্তব্য বা ফোনালাপ উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। আজ বুধবার চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এ পর্ব সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। এর পরই শুরু হবে আসামি পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক।
 

আরও পড়ুন

×