ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই ও টিভিইটিতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর

বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই ও টিভিইটিতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর
×

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:৩৭

শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান শক্তিশালী করতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ (টিভিইটি), গবেষণা ও ক্রস-বর্ডার এডুকেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হলে টিভিইটির কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এআইয়ের ব্যবহার বাড়াতে হবে। গবেষণায় জোর দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশে থাকা মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের দক্ষতা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

সোমবার সকালে রাজধানী ঢাকার বনানীতে শেরাটন হোটেলে আয়োজিত ‘কিউএস বাংলাদেশ ফোরাম ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল—‘বেঞ্চমার্ক বাংলাদেশ: বিল্ডিং ওয়ার্ল্ড-ক্লাস ইউনিভার্সিটিজ থ্রু গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডস’। সম্মেলনে বাংলাদেশের ৯০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে হলে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে শুধু প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা নয়, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও টিভিইটিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার আরও বাড়াতে হবে। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের শিক্ষাদান, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কিউএস র‌্যাংকিংয়ে অবস্থান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এগিয়ে যেতে হলে গবেষণার পরিধি বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানসম্মত গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ‘ক্রস-বর্ডার এডুকেশন’-এর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

ড. মিলন বলেন, বাংলাদেশে মেধাবী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর কোনো অভাব নেই। দেশের শিক্ষার্থীরা বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো ফলাফল করছে। গবেষণার ক্ষেত্রেও তারা সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে। এই মেধাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি মেধাবীদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি ‘রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন’-এর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বিদেশে থাকা মেধাবী শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের দেশে এনে তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা আরও এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক এডুকেশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার সামর্থ্য দেশের রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ইশতিয়াক আবেদিন এবং কিউএসের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার জেসন নিউম্যান বক্তব্য দেন। কিউএস ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ড. অশ্বিন ফার্নান্দেজ স্বাগত বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন

×